ইরানি বিমানে বাধা দিলে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান চলাচল বন্ধের হুমকি ইরানের
ইরানি বিমানকে উড্ডয়ন ও বিমানবন্দর সেবা থেকে বঞ্চিত করা হলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য দেশগুলোর বিমান চলাচলও বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইরান।
ইরানি বিমানে বাধা দিলে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান চলাচল বন্ধের হুমকি ইরানের
ইরানি বিমান চলাচলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও বিভিন্ন দেশের বিধিনিষেধের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের বিমান চলাচল নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবের বলেছেন, ইরানকে যদি বিমান চলাচল ও বিমানবন্দর সেবা থেকে বঞ্চিত করা হয়, তাহলে আঞ্চলিক কোনো দেশই একই ধরনের সুবিধা পাবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মোখবের বলেন, এ বিষয়ে ইরানের কৌশল স্পষ্ট—অঞ্চলের বিমান চলাচল সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, অথবা কারও জন্যই থাকবে না। ইরানি বিমান যদি উড়তে না পারে এবং বিমানবন্দরের প্রয়োজনীয় সেবা না পায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য কোনো দেশও এসব সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন।
ইরানের এই সতর্কবার্তা এসেছে দেশটির বিমান সংস্থাগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানিয়েছিলেন, ইরানি বিমান সংস্থাগুলোকে জ্বালানি, অবতরণ ও স্থলসেবা কিংবা টিকিট বিক্রির মতো সেবা দেওয়া বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এরই মধ্যে কয়েকটি দেশ ইরানি বিমান সংস্থার ফ্লাইট স্থগিত করেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর দেশটিতে যাতায়াত স্থগিত করেছে। ইরাকের বাগদাদ, নাজাফ, এরবিল ও সুলাইমানিয়াহ বিমানবন্দর থেকেও ইরানের সঙ্গে বিমান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। আজারবাইজান ও জর্জিয়াও ইরানি ফ্লাইটের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে।
ইরানের বিমান চলাচলে এই বিধিনিষেধের কারণে দেশটির আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। কিছু ফ্লাইট এখনও তুরস্ক, চীনসহ কয়েকটি গন্তব্যে চলাচল করছে, তবে অনেক রুট ইতোমধ্যে বাতিল হয়েছে বা সীমিত করা হয়েছে। ফলে ইরানি যাত্রীদের একটি অংশকে দীর্ঘ স্থলপথ ব্যবহার করে অন্য দেশের বিমানবন্দরে পৌঁছাতে হচ্ছে।
ইরানের এই বক্তব্যকে সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের সব বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘোষণা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ও বিমানবন্দর সেবা বন্ধের বিরুদ্ধে এটি তেহরানের পাল্টা সতর্কবার্তা। দেশটি বাস্তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এর আগে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাইও প্রতিবেশী দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহযোগিতা না করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি সতর্ক করেছিলেন, ইরানি ফ্লাইট বন্ধে সহযোগিতা করা হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বিমানবন্দর নিয়েও পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা এখন মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া হুমকির বাস্তব প্রয়োগ হবে কি না, সেটিই এখন পরিস্থিতির গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।