স্যান্ডির পর সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা, নর’ইস্টারে বিপর্যস্ত নিউ জার্সি উপকূল

শক্তিশালী নর’ইস্টারে জলোচ্ছ্বাস, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ফ্লাইট বাতিলে বিপর্যস্ত নিউ জার্সি; আরও উচ্চ জোয়ারে বাড়ছে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা।

PostImage

স্যান্ডির পর সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার শঙ্কা, নর’ইস্টারে বিপর্যস্ত নিউ জার্সি উপকূল


যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে শক্তিশালী নর’ইস্টার আঘাত হানায় নিউ জার্সির উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কতায় বলা হচ্ছে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে জার্সি শোরের কিছু এলাকায় হারিকেন স্যান্ডির পর সবচেয়ে গুরুতর উপকূলীয় বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

ইতোমধ্যে নিউ জার্সির ওশান সিটিসহ কয়েকটি উপকূলীয় এলাকায় জোয়ারের পানি বালিয়াড়ি ও নিচু এলাকাগুলোর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। উপকূলের পেছনের উপসাগরীয় এলাকার কিছু নিচু অংশেও পানি ঢুকতে শুরু করেছে। সামনে আরও কয়েক দফা উচ্চ জোয়ার থাকায় পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

নর’ইস্টারের প্রবল উত্তর ও উত্তর-পূর্ব দিকের বাতাস সমুদ্রের পানি উপকূলের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এর ফলে জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা বাড়তে পারে এবং নিচু উপকূলীয় এলাকায় দ্রুত পানি প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। উচ্চ জোয়ার, উপকূলীয় পানির উচ্চতা বৃদ্ধি ও ঝড়ো বাতাস একসঙ্গে কাজ করায় বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়ছে।

ঝড়ের প্রভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইতোমধ্যে ৭৫ হাজারের বেশি গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন হয়ে পড়েছেন। শক্তিশালী বাতাস অব্যাহত থাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিমান চলাচলেও বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। ঝড়ের কারণে শত শত ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল হয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় বন্যা ও প্রবল বাতাসের কারণে সড়ক যোগাযোগসহ অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থাতেও সমস্যা দেখা দিয়েছে।

নিউ জার্সির কয়েকটি উপকূলীয় এলাকায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বন্যাপ্রবণ ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের স্থানীয় জরুরি নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

ঝড়টি উপকূল ধরে উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিউ জার্সির পাশাপাশি নিউইয়র্ক ও নিউ ইংল্যান্ডের কিছু এলাকাতেও ভারী বৃষ্টি, শক্তিশালী বাতাস ও উপকূলীয় বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে একাধিক উচ্চ জোয়ারের কারণে উপকূলীয় বন্যা কয়েক ঘণ্টার বদলে দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে।

বর্তমানে উপকূলীয় বন্যা, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, বিপজ্জনক ঢেউ ও ভ্রমণ বিঘ্ন—এই চারটি প্রধান ঝুঁকির দিকে নজর রাখা হচ্ছে। আবহাওয়ার পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে বলে বাসিন্দাদের সর্বশেষ আবহাওয়া সতর্কতা ও স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

হারিকেন স্যান্ডির ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কারণে নিউ জার্সির উপকূলীয় অঞ্চলে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ঝড়ের গতিপথ ও তীব্রতার ওপর নির্ভর করে পরবর্তী সময়ে আরও জরুরি সতর্কতা বা স্থানীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর