ভোটার নাগরিকত্ব যাচাইয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সেভ ডেটাবেস ব্যবহারে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি
২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আইনি লড়াই; আপাতত সেভ ডেটাবেস ব্যবহারের সুযোগ পেল ট্রাম্প প্রশাসন।
ভোটার নাগরিকত্ব যাচাইয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সেভ ডেটাবেস ব্যবহারে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসনের সম্প্রসারিত ফেডারেল ডেটাবেস ব্যবহারের ওপর থাকা নিম্ন আদালতের বাধা সাময়িকভাবে তুলে দিয়েছে। এর ফলে চলমান আইনি লড়াইয়ের মধ্যেই প্রশাসন ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ে সেভ ব্যবস্থা ব্যবহার চালিয়ে যেতে পারবে। তবে আদালতের এই সিদ্ধান্ত মামলার মূল আইনি প্রশ্নের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নয়। বরং আপিল চলাকালে নিম্ন আদালতের নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
সেভ-এর পূর্ণ নাম সিস্টেম্যাটিক এলিয়েন ভেরিফিকেশন ফর এনটাইটেলমেন্টস। এটি মূলত নাগরিকত্ব ও অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের জন্য ব্যবহৃত একটি ফেডারেল ব্যবস্থা। ট্রাম্প প্রশাসন এর পরিধি বাড়িয়ে রাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে ভোটার তালিকা এবং ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেয়।
সুপ্রিম কোর্টের নথি অনুযায়ী, সম্প্রসারিত সেভ ব্যবস্থায় সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর ব্যবহার করে অনুসন্ধান এবং একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তির তথ্য যাচাইয়ের সুবিধাও রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ভোটারদের দেওয়া তথ্য ফেডারেল রেকর্ডের সঙ্গে মিলিয়ে নাগরিকত্ব যাচাই করতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, ভোটার তালিকায় নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য রাজ্যগুলোর কাছে কার্যকর একটি ফেডারেল ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। প্রশাসনের দাবি, সংশোধিত সেভ ব্যবস্থায় নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত তথ্যের পরিধি বাড়ানো হয়েছে এবং বড় পরিসরে তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতাও যুক্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে, এই ব্যবস্থার বিরোধিতাকারী ভোটাধিকার ও গোপনীয়তা-সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো এর আইনগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের আশঙ্কা, ফেডারেল রেকর্ডে ভুল, অসম্পূর্ণ বা পুরোনো তথ্য থাকলে যোগ্য মার্কিন নাগরিকরাও ভুলভাবে যাচাইয়ের আওতায় পড়তে পারেন। ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়েও তারা উদ্বেগ জানিয়েছে।
এই বিরোধ থেকেই ফেডারেল আদালতে মামলা শুরু হয়। ডিস্ট্রিক্ট কোর্ট সম্প্রসারিত সেভ ব্যবস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। পরে ট্রাম্প প্রশাসন সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে এবং নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার আবেদন জানায়। আপিল আদালত নিম্ন আদালতের আদেশ স্থগিত না করায় প্রশাসন শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়।
সুপ্রিম কোর্টের নথি অনুযায়ী, মামলাটি ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বনাম লিগ অব উইমেন ভোটারস নামে চলমান। প্রশাসন ৮ সেপ্টেম্বর জরুরি ভিত্তিতে নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করার আবেদন করে। এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট এ বিষয়ে আদেশ দেয়।
মামলার বাদী পক্ষ সেভ ব্যবস্থায় সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের তথ্য ব্যবহারের বৈধতা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলেছে। তাদের বক্তব্যের মধ্যে ভুল শনাক্তকরণের কারণে যোগ্য নাগরিকদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনার বিষয়টিও রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের শুক্রবারের সিদ্ধান্তকে তাই মামলার চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখা হচ্ছে না। আদালত এখনো সেভ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ আইনগতভাবে অনুমোদিত কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। আপিল চলাকালে শুধু নিম্ন আদালতের নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা স্থগিত করা হয়েছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসন আপাতত সম্প্রসারিত সেভ ব্যবস্থা ব্যবহার চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তের সময়ও গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ফলে ভোটার তালিকা, নাগরিকত্ব যাচাই, ফেডারেল ও রাজ্য সরকারের ভূমিকা এবং ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা—এসব বিষয় নির্বাচনকে ঘিরে চলমান আইনি বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
মামলার পরবর্তী ধাপে আদালতকে মূলত নির্ধারণ করতে হবে, সেভ ব্যবস্থার এই সম্প্রসারণ আইনগতভাবে অনুমোদিত কি না এবং ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের ক্ষেত্রে ফেডারেল সরকার ও রাজ্য কর্তৃপক্ষ কতটা তথ্য ব্যবহার করতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের বর্তমান আদেশ সেই চূড়ান্ত আইনি প্রশ্নের নিষ্পত্তি করেনি।