ন্যাটো ছাড়তে স্পেনে গণভোটের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
স্পেনে ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার দাবিতে রাজনৈতিক উদ্যোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে সরকার এখনো জোট ছাড়ার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
ন্যাটো ছাড়তে স্পেনে গণভোটের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
ন্যাটোকে ঘিরে স্পেনে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটটি ইউরোপের স্বার্থের চেয়ে বেশি আমেরিকান স্বার্থকে গুরুত্ব দেয়—এমন অভিযোগ তুলে স্পেনের কিছু রাজনৈতিক মহল ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার দাবি তুলেছে। তবে এখন পর্যন্ত স্পেন সরকার ন্যাটো ছাড়ার কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি।
২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে স্পেনের পার্লামেন্টে ন্যাটো থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব তোলে বামপন্থী দল পোদেমোস। কিন্তু ২২ এপ্রিল স্পেনের কংগ্রেস সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। ফলে দেশটির ন্যাটো সদস্যপদ বাতিলের কোনো প্রক্রিয়া বর্তমানে এগোচ্ছে না।
স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও সাম্প্রতিক সময়ে ন্যাটো ও ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্পেন যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী সামরিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের ঘাঁটি ও আকাশসীমা ব্যবহারের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে রয়টার্সের প্রতিবেদনে প্রকাশিত একটি পেন্টাগন ই-মেইলে স্পেনকে ন্যাটো থেকে স্থগিত করার সম্ভাবনার কথাও উঠে আসে। তবে ন্যাটোর প্রতিষ্ঠাতা চুক্তিতে কোনো সদস্যকে বহিষ্কার বা স্থগিত করার বিধান নেই।
এর মধ্যেও স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ন্যাটোর প্রতি দেশের অঙ্গীকারের কথা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। জুলাইয়ের ন্যাটো সম্মেলনে তিনি বলেন, স্পেন জোটের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একই সম্মেলনে স্পেন ফিনল্যান্ডে ন্যাটোর একটি সামরিক মিশনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেয়।
ফলে বর্তমানে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য হলো, স্পেন ন্যাটো ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মতপার্থক্য, ন্যাটোর সামরিক ব্যয় এবং ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে স্পেনে রাজনৈতিক বিতর্ক আগের তুলনায় আরও জোরালো হয়েছে। স্পেনের সরকারি নীতিতেও একই সঙ্গে ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা এবং ইউরোপের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।