জাতিসংঘে ট্রাম্পের সাথে বৈঠকের প্রস্তুতিতে জেলেনস্কি আর রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা অব্যাহত

জাতিসংঘ অধিবেশনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে বৈঠকের পূর্বমুহূর্তে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে পাল্টাপাল্টি তীব্র হামলা চলছে।

জাতিসংঘে ট্রাম্পের সাথে বৈঠকের প্রস্তুতিতে জেলেনস্কি আর রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা অব্যাহত

জাতিসংঘে ট্রাম্পের সাথে বৈঠকের প্রস্তুতিতে জেলেনস্কি আর রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা অব্যাহত


রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত এক নতুন কূটনৈতিক ও সামরিক মোড়ে এসে পৌঁছেছে। একদিকে ইউক্রেনের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে রাশিয়ার ধারাবাহিক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, অন্যদিকে রাশিয়ার অর্থনৈতিক অবকাঠামো বিশেষ করে তেল শোধনাগারগুলোকে নিশানা করে ইউক্রেনের পাল্টা দূরপাল্লার আক্রমণ—সব মিলিয়ে এক চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এই ভয়াবহ সামরিক মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যেই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র সফরে পৌঁছে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন এবং মার্কিন গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সাথে উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় বসছেন।  


আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রাশিয়া ইউক্রেনের চারটি প্রধান এলাকায় রাতে ভয়াবহ বিমান ও ড্রোন হামলা চালায়। স্থানীয় কর্মকর্তা ও উদ্ধারকারী দলের সূত্রে জানা গেছে, রাশিয়ার ছোড়া এই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত চারজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন। ইউক্রেনের বেসামরিক আবাসন এলাকা ও কৌশলগত শক্তি অবকাঠামো লক্ষ্য করে নিয়মিতভাবে চালানো এই ধরনের হামলা বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।  
তবে ইউক্রেনীয় বাহিনীও ঘরে বসে নেই। রাশিয়ার আক্রমণের তীব্র জবাব দিতে ইউক্রেন তাদের উন্নত দূরপাল্লার ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ একটি তেল শোধনাগারে সফল হামলা চালিয়েছে। এতে শোধনাগারটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন ধারাবাহিকভাবে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংসের কৌশল গ্রহণ করেছে, যাতে রাশিয়ার যুদ্ধের অর্থায়ন ও সামরিক রসদ সরবরাহ ব্যাহত করা যায়।  


যদিও সমরে উভয় পক্ষই ভারী অস্ত্র ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করেছে, তবে রণক্ষেত্রের মূল ফ্রন্টলাইনে স্থলভাগের সীমানায় বড় কোনো পরিবর্তন দৃশ্যমান নয়। রাশিয়ার বাহিনী কিংবা ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী কাউকেই স্পষ্ট কৌশলগত সুবিধাজনক অবস্থানে যেতে দেখা যাচ্ছে না। উভয় পক্ষের সামরিক অবস্থান প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও প্রতিদিন আকাশপথে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং কামানের গোলাবর্ষণের মাত্রা বহু গুণে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা স্থানীয় জনগণের জীবনযাত্রাকে বিপন্ন করে তুলছে।  
যুদ্ধক্ষেত্রের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির আবহেই আন্তর্জাতিক সমর্থনের সন্ধানে যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন ইউক্রেনীয় প্রধান ভলোদিমির জেলেনস্কি। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে এসে তিনি একাধিক বিশ্বনেতার সাথে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। এই সফরটি ইউক্রেনের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশটির সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তার ওপর যুদ্ধের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে।  


বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে জেলেনস্কির সাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পিত বৈঠকটি। মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্রের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত ও অবস্থান ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ সামরিক সহায়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে একাধিকবার ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত সমাপ্ত করার বিষয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন। তাই এই দুই নেতার মধ্যকার আলাপ আলোচনা ইউক্রেনের জন্য নতুন কোনো কূটনৈতিক দিকনির্দেশনা আনবে কিনা, সেদিকে পুরো বিশ্ব আগ্রহের সাথে লক্ষ্য রাখছে। 


 
নিউইয়র্কে অবস্থানকালে জেলেনস্কি কেবল ডোনাল্ড ট্রাম্পই নন, বরং বিশ্বের অন্যান্য শীর্ষ ক্ষমতাধর নেতাদের সাথেও পৃথক বৈঠক করছেন। তাঁর এই দূরদর্শী কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রধান উদ্দেশ্য হলো ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড রক্ষায় বৈশ্বিক জোটকে আরও শক্তিশালী করা, নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা। ইউক্রেনের সরকার প্রধান আশা করছেন যে আন্তর্জাতিক মহলের অবিচল সাহায্য তাদের এই কঠিন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে প্রতিরোধ করতে সহায়তা করবে।  
সব মিলিয়ে, একদিকে রণক্ষেত্রে রক্তক্ষয়ী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র যুদ্ধ আর অন্যদিকে জাতিসংঘের মঞ্চে বিশ্বনেতাদের সাথে কূটনীতির জটিল সমীকরণ—দুইয়ে মিলে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাত এখন এক অত্যন্ত সংবেদনশীল মুহূর্তে প্রবেশ করেছে। এই যুদ্ধের সামরিক পরিণতি এবং কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফল আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর