জনগণই রাস্তায় আপনাদের ধাওয়া দেবে , সরকারকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কড়া হুঁশিয়ারি

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ, সরকারকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর হুঁশিয়ারি ‘১১ দল নয়, জনগণই একদিন রাস্তায় আপনাদের ধাওয়া দেবে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জনগণই রাস্তায় আপনাদের ধাওয়া দেবে , সরকারকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কড়া হুঁশিয়ারি

জনগণই রাস্তায় আপনাদের ধাওয়া দেবে , সরকারকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কড়া হুঁশিয়ারি


জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানীর বাংলামোটরে বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে ক্ষমতাসীন বিএনপি সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সরকার জ্বালানিসংকট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিরোধী দল নয়, সরকারের কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ জনগণই একসময় রাস্তায় তাদের ধাওয়া দেবে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার উদ্যোগে বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমে বাংলামোটরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন দলটির নেতা-কর্মীরা।

সমাবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানিসংকট থাকার বিষয়টি তাঁরা অস্বীকার করছেন না। তবে সেই সংকট মোকাবিলায় সরকারের সক্ষমতা নেই বলে তিনি অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার ইতোমধ্যেই দেশের মানুষের সামনে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে।

সরকারের উদ্দেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, “যদি সরকার মনে করে যে বিরোধী দল বা ১১-দলীয় জোট আমাদের কী করবে, আমরা বলবো ১১-দলীয় জোট কিছু করবে না, আপনাদের জনগণ রাস্তায় আপনাদের ধাওয়া দেবে।” জনগণের ওপর জ্বালানির বাড়তি ব্যয়ের চাপ দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি সরকারের নীতির সমালোচনা করেন।

এনসিপির এই নেতা আরও অভিযোগ করেন, সরকার জ্বালানিসংকট মোকাবিলার পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও ব্যর্থ হয়েছে। গণমাধ্যমের ওপরও সরকার চাপ সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এগুলো নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর রাজনৈতিক অভিযোগ; সরকারের প্রতিক্রিয়া সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়নি।

জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন নাসীরুদ্দীন। তাঁর ভাষ্য, এনসিপি ও বিরোধী জোট সরকারের কাছে সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু সরকার সেই পথে যায়নি। তিনি গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাইয়ের ঘটনাবলির বিচার এবং সংস্কারের দাবিকেও তাদের চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে তুলে ধরেন।

এনসিপির এই বিক্ষোভের পটভূমিতে রয়েছে জ্বালানি তেলের নতুন মূল্য। সরকারের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতে এসব জ্বালানির দাম ছিল যথাক্রমে ১১৫, ১৩৫, ১৪০ ও ১৪৫ টাকা। অর্থাৎ চার ধরনের জ্বালানির দামই লিটারে ২০ টাকা করে বেড়েছে।

এই মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধেই সোমবার সন্ধ্যায় রাজপথে নামে এনসিপি। আজকের পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাত আটটার দিকে বাংলামোটরের রূপায়ণ ট্রেড সেন্টারের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয়। এতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পাশাপাশি এনসিপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।

বাংলামোটরের সমাবেশ শেষে মিছিলটি পরীবাগ এলাকায় ‘জননী ও গর্বিত বর্ণমালা ভাস্কর্যের’ সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে আরেকটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মিছিলে এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক ইসহাক সরকার, সদস্যসচিব এস এম শাহরিয়ার, ঢাকা জেলা উত্তরের আহ্বায়ক নাবিলা তাসনিদ, যুব সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ সোহেল এবং জাতীয় শ্রমিক শক্তির সদস্যসচিব ঋআজ মোর্শেদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী অংশ নেন।

সমাপনী বক্তব্যে ইসহাক সরকারও সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন। তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর রাজনৈতিক কর্মসূচির ইঙ্গিত দেন। এগুলোও এনসিপি নেতাদের রাজনৈতিক বক্তব্য ও অভিযোগ।

জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করছে এনসিপি। বাংলামোটরের কর্মসূচিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ‘জনগণ রাস্তায় আপনাদের ধাওয়া দেবে’ মন্তব্যটি সেই রাজনৈতিক বিরোধেরই সর্বশেষ প্রকাশ।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর