বিশ্বনেতাদের সামনে আজ ট্রাম্প, ইরান যুদ্ধ থেকে ইউক্রেন জাতিসংঘে কী বার্তা দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

বিশ্বনেতাদের সামনে আজ ট্রাম্প, ইরান যুদ্ধ-ইউক্রেন থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা—জাতিসংঘের মঞ্চে কী বার্তা দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট, নজর পুরো বিশ্বের।

বিশ্বনেতাদের সামনে আজ ট্রাম্প, ইরান যুদ্ধ থেকে ইউক্রেন জাতিসংঘে কী বার্তা দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

বিশ্বনেতাদের সামনে আজ ট্রাম্প, ইরান যুদ্ধ থেকে ইউক্রেন জাতিসংঘে কী বার্তা দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?


যুদ্ধ, জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তার এবং জাতিসংঘের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের মধ্যে আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কের প্রথম দিনেই বিশ্বনেতাদের সামনে বক্তব্য দেবেন তিনি।

জাতিসংঘের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২২ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া সাধারণ বিতর্ক চলবে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং এক দিনের বিরতির পর ২৮ সেপ্টেম্বর শেষ হবে। রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানসহ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা এই সময়ে নিজ নিজ দেশের অবস্থান ও আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন।

প্রথম দিনের সকালের অধিবেশনের বক্তাদের তালিকায় ব্রাজিলের পরই যুক্তরাষ্ট্র রয়েছে। ফলে অধিবেশনের শুরুতেই ট্রাম্পের বক্তব্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও কূটনৈতিক মহলের বিশেষ নজরে থাকবে।

এবারের ভাষণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপটগুলোর একটি ইরান যুদ্ধ। এপি জানিয়েছে, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সাম্প্রতিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প তাঁর ভাষণে ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান, যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এবং কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নিয়ে কী বলেন, সেটি বিশেষভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। তবে ভাষণ হওয়ার আগে তাঁর নির্দিষ্ট বক্তব্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

ইরানের পাশাপাশি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধও আলোচনায় আসতে পারে। এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘায়িত যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প সম্প্রতি হতাশা প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে রাশিয়া ও ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধের প্রচেষ্টা প্রত্যাশিত ফল না দেওয়ায় বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে।

সোমবার নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইউক্রেন যুদ্ধকে ‘শেষহীন’ যুদ্ধ হিসেবে উল্লেখ করে এটি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন। একই সময়ে রাশিয়ার তেল ও জ্বালানি অবকাঠামোর পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন তিনি।

আরেকটি বড় বিষয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এবারের জাতিসংঘ অধিবেশন এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন এআইয়ের দ্রুত বিকাশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়ছে। জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহে যুদ্ধ ও জলবায়ু সংকটের পাশাপাশি এআই নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হিসেবে উঠে এসেছে।

ট্রাম্পের বক্তব্যে জাতিসংঘের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাঁর প্রশাসন জাতিসংঘে মার্কিন আর্থিক সহায়তা কমানোর বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় বহুপক্ষীয় সংস্থাটির ভবিষ্যৎ অর্থায়ন ও কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এবারের সাধারণ বিতর্কের প্রতিপাদ্য হলো ‘আস্থা পুনর্গঠন, পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ’। বাংলাদেশের খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন।

শুধু ভাষণেই ট্রাম্পের জাতিসংঘ সফর সীমাবদ্ধ থাকছে না। হোয়াইট হাউসের পরিকল্পনার বরাত দিয়ে এপি জানিয়েছে, ভাষণের পর নতুন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্টের।

এ ছাড়া বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশগুলোর নেতা ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তাঁর বৈঠকের কথা রয়েছে। সেখানে ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এবং সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গেও ট্রাম্পের একটি অপেক্ষাকৃত অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে বলে এপি জানিয়েছে।

জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের ভূখণ্ড হিসেবেই থাকবে, তবে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সম্প্রসারণের পথ তৈরি হবে।

ট্রাম্প এমন এক সময়ে জাতিসংঘের মঞ্চে ফিরছেন, যখন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা একাধিক সংকটে জর্জরিত। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের যুদ্ধ, বিশ্ব অর্থনীতির অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সরবরাহের চাপ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ—সব মিলিয়ে এবারের সাধারণ পরিষদকে ঘিরে প্রত্যাশা ও উদ্বেগ দুটোই বেশি।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও বিশ্বব্যবস্থার পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে এনেছেন। বিশ্বনেতাদের এবারের সমাবেশ এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবর্তিত বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।

ফলে বিশ্বনেতাদের সামনে ট্রাম্পের আজকের ভাষণ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির বার্তা হিসেবেই নয়, ইরান যুদ্ধ, ইউক্রেন, এআই এবং জাতিসংঘের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কোন পথে এগোতে পারে—তার ইঙ্গিত পাওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর