সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথম ভাষণে বিশ্বমঞ্চে উঠছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘের মঞ্চে জিয়া পরিবারের নতুন অধ্যায়, তৃতীয় সদস্য হিসেবে প্রথম ভাষণ দিতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথম ভাষণে বিশ্বমঞ্চে উঠছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সরকারপ্রধান হিসেবে প্রথম ভাষণে বিশ্বমঞ্চে উঠছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এর মধ্য দিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পর জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মঞ্চে বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর ২৬ সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে ঢাকা ছাড়েন তারেক রহমান। নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সপ্তাহ ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের আরেকটি উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে—৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের খলিলুর রহমান।

পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলায় ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, তরুণ ও নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য এবং রোহিঙ্গা সংকট গুরুত্ব পাওয়ার কথা রয়েছে। বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সংস্কার এবং আধুনিক প্রযুক্তির ন্যায়সংগত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবহারের বিষয়ও বক্তব্যে আসতে পারে।

জিয়া পরিবারের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার ইতিহাস চার দশকেরও বেশি পুরোনো। জাতিসংঘের সরকারি নথি অনুযায়ী, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে বক্তব্য দেন। অধিবেশনটির মূল বিষয় ছিল নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা।

জিয়াউর রহমান তাঁর বক্তব্যে উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য, দারিদ্র্য এবং একটি নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন। জাতিসংঘের নথিতে তাঁর সেই বক্তব্য এখনো সংরক্ষিত রয়েছে।

পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়াও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। জাতিসংঘের ডিজিটাল আর্কাইভে তাঁর বিভিন্ন অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্য সংরক্ষিত রয়েছে। ১৯৯৫ সালে জাতিসংঘের ৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মারক সভায় তাঁর অংশগ্রহণের নথি রয়েছে।

২০০৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সাধারণ পরিষদের ৬০তম অধিবেশনেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া ভাষণ দেন। জাতিসংঘের সরকারি নথিতে দেখা যায়, তিনি বাংলায় বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিদল ইংরেজি পাঠ সরবরাহ করেছিল। ওই বক্তব্যে সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু উঠে আসে।

এবার সেই ধারাবাহিকতায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মঞ্চে উঠতে যাচ্ছেন তারেক রহমান। তবে তাঁর বক্তব্যের গুরুত্ব শুধু পারিবারিক ধারাবাহিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই হবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম ভাষণ এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে তাঁর সরকারের নীতি ও অগ্রাধিকার তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সাধারণ বিতর্কে বিশ্বের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানেরা নিজ নিজ দেশের অবস্থান ও আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকার তুলে ধরেন। এবারের অধিবেশনেও বৈশ্বিক সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন, উন্নয়ন ও জাতিসংঘ সংস্কারের মতো বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

ফলে ২৪ সেপ্টেম্বরের ভাষণে তারেক রহমান বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক শান্তি-নিরাপত্তার প্রশ্নে কী অবস্থান তুলে ধরেন, সেদিকে নজর থাকবে। একই সঙ্গে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার পর একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তাঁর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টিও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি উল্লেখযোগ্য ধারাবাহিকতা হিসেবে নথিভুক্ত হবে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর