চীন-ইউক্রেন-আর্কটিক নিয়ে ট্রাম্পের ব্যস্ততা, বিশ্বনিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় নজর

চীন, ইউক্রেন ও আর্কটিক নিরাপত্তা ঘিরে জাতিসংঘ অধিবেশনের সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে, সামনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও চুক্তি রয়েছে।

চীন-ইউক্রেন-আর্কটিক নিয়ে ট্রাম্পের ব্যস্ততা, বিশ্বনিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় নজর

চীন-ইউক্রেন-আর্কটিক নিয়ে ট্রাম্পের ব্যস্ততা, বিশ্বনিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের বড় নজর


যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সপ্তাহ শুরু হয়েছে। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে ঘিরে নিউইয়র্কে একাধিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ও কূটনৈতিক উদ্যোগ সামনে এসেছে। চীন, ইউক্রেন এবং আর্কটিক নিরাপত্তা—এই তিনটি ইস্যু ওয়াশিংটনের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেংয়ের সঙ্গে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট রোববার নিউইয়র্কে বৈঠক করেছেন। বৈঠকটি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আসন্ন বৈঠকের প্রস্তুতির অংশ। আলোচনায় বাণিজ্য, অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অন্যান্য কৌশলগত বিষয় উঠে এসেছে। 

রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সংক্রান্ত নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে একটি সম্ভাব্য যোগাযোগব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা করেছে। এর লক্ষ্য হতে পারে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ঘটনা বা ঝুঁকি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগের সুযোগ তৈরি করা। 

এই আলোচনা ট্রাম্প ও শির সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠকের আগে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক নিয়ে প্রস্তুতিমূলক কূটনীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প-শি বৈঠকটি এই সপ্তাহে ওয়াশিংটনে হওয়ার কথা রয়েছে। 

ইউক্রেন ইস্যুতেও কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন। ইউক্রেনের যুদ্ধ ও সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে দুই নেতার আলোচনায় গুরুত্ব পাওয়ার কথা। 

এদিকে আর্কটিক নিরাপত্তা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সামনে এসেছে। ডেনমার্ক, গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তিতে স্বাক্ষর করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ডেনমার্কের সরকার বলেছে, চুক্তিটির লক্ষ্য আর্কটিক ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করা। 

চুক্তির বিষয়ে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড জানিয়েছে, এর মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার সম্মান করা হবে। চুক্তির পূর্ণ বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তির মাধ্যমে আর্কটিক নিরাপত্তায় ন্যাটো-এর ভূমিকা আরও স্পষ্ট হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। 

ফলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক এজেন্ডায় বাণিজ্য ও অর্থনীতি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং আর্কটিক নিরাপত্তা—তিনটি বড় ভূরাজনৈতিক ইস্যু পাশাপাশি রয়েছে। নিউইয়র্কের বৈঠকগুলো থেকে এসব বিষয়ে কী ধরনের সমঝোতা বা নতুন উদ্যোগ সামনে আসে, সেদিকেই আন্তর্জাতিক মহলের নজর থাকবে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর