‘হাসিনার চেয়েও ভয়াবহ হবে এই সরকার’ এস এম ফরহাদের হুঁশিয়ারি

‘হাসিনার চেয়েও ভয়াবহ ফ্যাসিবাদ হয়ে উঠবে এই সরকার’—বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে এস এম ফরহাদের কঠোর সমালোচনা।

‘হাসিনার চেয়েও ভয়াবহ হবে এই সরকার’ এস এম ফরহাদের হুঁশিয়ারি

‘হাসিনার চেয়েও ভয়াবহ হবে এই সরকার’ এস এম ফরহাদের হুঁশিয়ারি


দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ। তাঁর নামে প্রচারিত সাম্প্রতিক বক্তব্যে বর্তমান সরকারকে ঘিরে কর্তৃত্ববাদ ও ‘ফ্যাসিবাদ’ প্রতিষ্ঠার আশঙ্কার কথা উঠে এসেছে। তবে “হাসিনার চেয়েও ভয়াবহ ফ্যাসিবাদ হয়ে উঠবে এই সরকার”—এই নির্দিষ্ট বাক্যটির মূল ভিডিও, পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য বা নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদন স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তাই বক্তব্যটি ফরহাদের নামে প্রচারিত মন্তব্য হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ফরহাদের কঠোর সমালোচনার তথ্য একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। গত ১৫ সেপ্টেম্বর ডাকসু সংগ্রহশালা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার নীতিকেও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। 

মূলত ডাকসু সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ও তাঁর বাংলা ভাষাবিরোধী বক্তব্য প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ডাকসুর কয়েকটি কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং অনুমোদন ছাড়া কার্যক্রম অব্যাহত রাখলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানায়। 

এই অবস্থানের সমালোচনা করে ফরহাদ অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিবৃতির ভাষা একটি রাজনৈতিক দলের বক্তব্যের মতো মনে হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত ছিল কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ডাকসু নেতাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া। একই সঙ্গে সংগ্রহশালায় ছবি, নথিপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ নিয়েও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। 

জিন্নাহর ছবি রাখার বিষয়েও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন ডাকসু জিএস। ফরহাদের দাবি, জিন্নাহকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপনের জন্য নয়, বরং ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বোঝানোর জন্য তাঁর ছবি এবং বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার বিরোধিতার বক্তব্য সেখানে রাখা হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসসংক্রান্ত পাঠ্যবইয়েও জিন্নাহর সেই অবস্থানের আলোচনা রয়েছে। 

ফরহাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উপাচার্য ডাকসুর সভাপতি এবং সংগ্রহশালা উদ্বোধনের আগেও সেখানে গিয়েছিলেন। ফলে কোনো বিষয় নিয়ে আপত্তি থাকলে প্রশাসন আগেই ডাকসুর সঙ্গে আলোচনা করতে পারত। তিনি প্রশাসনের প্রতিক্রিয়ার ধরনকে অস্বাভাবিক আখ্যা দিয়ে বলেন, সামরিক শাসন, বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগ আমলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের ভাষায় তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া তিনি দেখেননি। 

অন্যদিকে জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি অংশের তীব্র আপত্তিও রয়েছে। একজন শিক্ষার্থী সংগ্রহশালা থেকে জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলেন। সমালোচকদের বক্তব্য, বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের বিরোধিতাকারী জিন্নাহকে ডাকসুর সংগ্রহশালায় এভাবে স্থান দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। ফরহাদ অবশ্য পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন, ছবির সঙ্গে জিন্নাহর বাংলা ভাষাবিরোধী অবস্থানই তুলে ধরা হয়েছিল। 

এস এম ফরহাদের রাজনৈতিক পরিচয়ও আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বর্তমানে ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক; এর আগে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃত্বে ছিলেন। ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ থেকে সাধারণ সম্পাদক পদে তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছিল। 

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘ফ্যাসিবাদ’ শব্দটি বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ প্রতিপক্ষের কর্মকাণ্ড বর্ণনা করতে ব্যবহার করে থাকে। এটি একটি রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত মূল্যায়ন। ফলে বর্তমান সরকার বা আগের সরকারকে ‘ফ্যাসিবাদী’ হিসেবে চিহ্নিত করা এখানে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে নয়, বরং সংশ্লিষ্ট বক্তার রাজনৈতিক অভিযোগ বা মূল্যায়ন হিসেবে উল্লেখ করা জরুরি।

সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোতে এস এম ফরহাদ মূলত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ, মতপ্রকাশের সুযোগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনের প্রশ্ন সামনে এনেছেন। তাঁর বক্তব্যের বিপরীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও ডাকসুর কয়েকটি কার্যক্রমের বৈধতা ও অনুমোদন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন শুধু সংগ্রহশালার একটি ছবি নিয়ে বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ও নির্বাচিত ছাত্র সংসদের ক্ষমতা, দায়িত্ব এবং পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়েও নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। 

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর