জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়লেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের নতুন বার্তা নিয়ে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিশেষ ফ্লাইটে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পথ ধরেন। এটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম আন্তর্জাতিক বড় কোনো বড় সম্মেলনে অংশগ্রহণ। সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, মন্ত্রিপরিষদের কয়েকজন সদস্য, সংসদ সদস্য, পররাষ্ট্র সচিবসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল।  


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রের তথ্যানুযায়ী, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মূল অধিবেশনে বিশ্ব নেতাদের সামনে ভাষণ দেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর এই ভাষণটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বক্তব্যে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, আইনের শাসন, মানবাধিকার রক্ষা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি এবং বিশ্বশান্তি বজায় রাখার অঙ্গীকার উঠে আসবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চলমান সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নানা দিক নিয়ে তিনি বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্ট করবেন।  


সফরের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হলো রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট। দীর্ঘ দিন ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করা মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত নাগরিকদের সম্মানজনক ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে জোর দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এ উদ্দেশ্যে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশ আয়োজিত একটি বিশেষ পার্শ্ববৈঠকে অংশ নেবেন তিনি। উক্ত বৈঠকে তিনি বৈশ্বিক শক্তিগুলোকে আহ্বান জানাবেন যাতে মিয়ানমারের ওপর কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং এই সমস্যার দ্রুত স্থায়ী সমাধান বের করা সম্ভব হয়।  


এছাড়া পরিবেশ ও জলবায়ু সম্পর্কিত বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সংলাপে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশে যে আর্থিক ও ভৌগোলিক ক্ষতির মুখোমুখি হচ্ছে, তা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে ক্ষতিপূরণ ও সহযোগিতা সুনিশ্চিত করার দাবি জানাবেন তিনি। পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের অর্জিত সাফল্য এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনাগুলো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে উপস্থাপন করা হবে।  


নিউইয়র্কে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী একাধিক রাষ্ট্রের সরকারপ্রধান এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার শীর্ষ প্রধানদের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা এবং উন্নয়নশীল দেশের অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন, বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে আলোচনা হবে। আমেরিকার শীর্ষ স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও বিনিয়োগকারীদের সাথেও একটি বিশেষ বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশে শিল্প স্থাপন ও প্রযুক্তি খাতে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানানো হবে।  
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও বিশেষ উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা গেছে। প্রবাসী বিভিন্ন সংগঠন প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানানো থেকে শুরু করে জাতিসংঘ কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করার প্রস্তুতি নিয়েছেন তারা। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দেশের স্বার্থ রক্ষা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার লক্ষ্য নিয়েই এই বহুল প্রত্যাশিত সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সমস্ত কর্মসূচি শেষে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সময় রাতে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর