জাতিসংঘ অধিবেশনের মধ্যেই নিউইয়র্কে ট্রাম্প-মামদানি বৈঠক!
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ঘিরে নিউইয়র্ক সফরে ট্রাম্প, সোমবার গ্রেসি ম্যানশনে মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে এখন জোরেশোরে।
জাতিসংঘ অধিবেশনের মধ্যেই নিউইয়র্কে ট্রাম্প-মামদানি বৈঠক!
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ব্যস্ততার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির বৈঠক ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, সোমবার নিউইয়র্কের মেয়রের সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে ট্রাম্পকে স্বাগত জানানোর কথা রয়েছে মামদানির।
২০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ উপলক্ষে ট্রাম্পের নিউইয়র্ক সফরের মধ্যেই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। দুই নেতার রাজনৈতিক অবস্থানে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকলেও নিউইয়র্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে।
ট্রাম্প ও মামদানির সর্বশেষ সরাসরি সাক্ষাৎ হয়েছিল চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে। এরপরও তাদের মধ্যে বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগ হয়েছে। সোমবারের বৈঠকে নিউইয়র্ক সিটি ও নগরবাসীর ওপর প্রভাব ফেলা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
এই বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে কারণ ট্রাম্পের প্রশাসন ও নিউইয়র্কের নেতৃত্বের মধ্যে অভিবাসনসহ বেশ কিছু নীতি নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ বিধির বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক আইনি লড়াই শুরু করেছে। নতুন বিধিতে গ্রিন কার্ড বা নির্দিষ্ট ভিসার আবেদন পর্যালোচনার সময় অভিবাসন কর্মকর্তাদের সরকারি সুবিধা গ্রহণসহ আবেদনকারীর আর্থিক ও পারিবারিক পরিস্থিতি আরও বিস্তৃতভাবে বিবেচনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিবাসন অভিযান নিয়েও কেন্দ্রীয় সরকার ও নিউইয়র্ক কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত তথ্যে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছিল, নিউইয়র্কে প্রায় এক মাসের বিশেষ অভিবাসন অভিযানে ২ হাজার ১৯৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল ও মেয়র মামদানি অভিযানের ধরন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন।
ফলে সোমবারের বৈঠকে অভিবাসন নীতি আলোচনায় আসে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে। তবে বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ঠিক কোন কোন বিষয় থাকবে, তা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেওয়া হয়নি। তাই নির্দিষ্ট কোনো ইস্যু নিয়ে দুই নেতা কী সিদ্ধান্ত নেবেন, তা আগাম নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
রাজনৈতিক মতপার্থক্যের মধ্যেও দুই পক্ষের যোগাযোগ চালু থাকা বৈঠকটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখতে তাঁর নিউইয়র্ক—বিশেষ করে কুইন্সের—যোগসূত্রকেও কাজে লাগিয়েছেন মামদানি।
বৈঠকটি এমন এক সময়ে হওয়ার কথা, যখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ উপলক্ষে বিশ্বের বহু দেশের নেতা ও শীর্ষ প্রতিনিধিরা নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। ফলে শহরের নিরাপত্তা, যান চলাচল এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়েও ব্যস্ততা রয়েছে।
ট্রাম্প-মামদানির বৈঠক থেকে কোনো নির্দিষ্ট সমঝোতা বা ঘোষণা আসে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়। আপাতত নিশ্চিত তথ্য হলো—দুই ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানের নেতা সোমবার গ্রেসি ম্যানশনে মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে নিউইয়র্ক সিটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়।