ইরান নিয়ে ট্রাম্পের ‘বড় সিদ্ধান্ত’ সামনে যুদ্ধের পাশাপাশি আলোচনার পথও খোলা

ইরান নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত ট্রাম্পের, সামরিক অভিযান ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেই নতুন সমঝোতার শর্ত পাঠিয়েছে তেহরান।

ইরান নিয়ে ট্রাম্পের ‘বড় সিদ্ধান্ত’ সামনে যুদ্ধের পাশাপাশি আলোচনার পথও খোলা

ইরান নিয়ে ট্রাম্পের ‘বড় সিদ্ধান্ত’ সামনে যুদ্ধের পাশাপাশি আলোচনার পথও খোলা


ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক মনোযোগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর সামনে একটি ‘বড় সিদ্ধান্ত’ রয়েছে। সামরিক অভিযান আরও সম্প্রসারণ করা হবে, নাকি অন্য পথে এগোনো হবে—সেই সিদ্ধান্ত সামনে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। 

ফক্স নিউজের ১৭ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন যে ইরান যুদ্ধ কোন দিকে যাবে, সে বিষয়ে শিগগিরই তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইরানি শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে আরও ব্যাপক সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনার কথাও তিনি প্রকাশ্যে তুলেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, তাঁর সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত নয়। 

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কারণ হলো, এর আগে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ২ সেপ্টেম্বর ফক্স নিউজে প্রচারিত এক প্রতিবেদনে প্রধান বৈদেশিক সংবাদদাতা ট্রে ইয়িংস্ট জানান, ট্রাম্প তাঁকে ফোনে বলেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাব দিলে আরও বড় আঘাতের মুখে পড়তে পারে। 

তবে সামরিক শক্তিই ওয়াশিংটনের একমাত্র হাতিয়ার নয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়িয়েছে। নিষেধাজ্ঞা, তেল বাণিজ্যের ওপর চাপ এবং আর্থিক নেটওয়ার্ক লক্ষ্য করে নেওয়া বিভিন্ন ব্যবস্থাকে ইরানের ওপর চাপ তৈরির গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে ব্যবহার করছে ওয়াশিংটন। গত আগস্টে ট্রাম্প তাৎক্ষণিকভাবে সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের পরিবর্তে ইরানের অর্থনৈতিক সংকট পর্যবেক্ষণের কথাও বলেছিলেন। 

এই সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও কূটনৈতিক দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং ইরানের পক্ষ থেকে নতুন করে আলোচনায় ফেরার জন্য শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

রয়টার্সের ২০ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মোহসেন রেজাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধ এবং পুনরায় আলোচনায় ফেরার লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে শর্ত পাঠিয়েছে তেহরান।

রেজাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, আটকে থাকা ইরানি অর্থ ছাড় করা এবং ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধের অবসান ঘটানো। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। তেহরান এখন ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। 

আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও রেজাই বলেছেন, কাতারের মাধ্যমে ইরানের শর্ত ওয়াশিংটনের কাছে পাঠানো হয়েছে। আল জাজিরার বিস্তারিত প্রতিবেদনে আরও কয়েকটি দাবি উল্লেখ করা হয়েছে—ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন হস্তক্ষেপ বন্ধ এবং ইরানি ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা বন্ধ করার মতো বিষয়ও এর মধ্যে রয়েছে। 

হরমুজ প্রণালি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে বিরোধ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগস্টে রয়টার্স জানিয়েছিল, ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, জুনে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতার শর্ত যুক্তরাষ্ট্র পূরণ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে। ইরানের দাবির মধ্যে নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, জব্দ করা অর্থ ছাড় এবং সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয় ছিল। 

তবে জুনের সেই সমঝোতা দ্রুত সমস্যায় পড়ে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের পর ট্রাম্প ৭ জুলাই সমঝোতাটি শেষ হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন। পরে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও সেটিকে স্থগিত ঘোষণা করে।

ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সামনে একই সঙ্গে সামরিক সংঘাত এবং কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে। ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কয়েকটি শর্ত সামনে আনলেও যুক্তরাষ্ট্র সেগুলো গ্রহণ করবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনকে সামনে রেখে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ফক্স নিউজ জানিয়েছে, নিউইয়র্কে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত ও ওমানের নেতাদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের কথা রয়েছে। ট্রাম্প বলেছেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এসব মিত্র দেশের নেতাদের বক্তব্যও তিনি শুনতে চান।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর