চীনা অর্থ ও সহযোগিতা নিয়ে দুই মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্ত
বিদেশি অর্থ ও চুক্তির তথ্য প্রকাশে অনিয়মের অভিযোগে ডিউক ও নর্থ ডাকোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্রের দুই ফেডারেল দপ্তর।
চীনা অর্থ ও সহযোগিতা নিয়ে দুই মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে তদন্ত
যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি অর্থ, চুক্তি ও গবেষণা সহযোগিতা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে দেশটির শিক্ষা বিভাগ ও পররাষ্ট্র দপ্তর। তদন্তের আওতায় রয়েছে ডিউক ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ডাকোটা। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিদেশি উৎস থেকে পাওয়া অর্থ ও চুক্তির তথ্য সঠিকভাবে, সম্পূর্ণভাবে এবং নির্ধারিত সময়ে প্রকাশ করেছে কি না, মূলত সেটিই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই তদন্তের ভিত্তি হলো যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা আইনের ১১৭ নম্বর ধারা। এই আইনের আওতায় ফেডারেল আর্থিক সহায়তা পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিদেশি উৎস থেকে পাওয়া ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা তার বেশি মূল্যের উপহার ও চুক্তির তথ্য প্রকাশ করতে হয়। আইনটির উদ্দেশ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিদেশি আর্থিক সম্পর্ক সম্পর্কে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
ডিউক ইউনিভার্সিটির ক্ষেত্রে তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চীনের উহান ইউনিভার্সিটির সঙ্গে অংশীদারিত্ব এবং ডিউক কুনশান ইউনিভার্সিটি। মার্কিন কর্মকর্তারা খতিয়ে দেখছেন, ডিউকের আগের বিদেশি অর্থ ও অংশীদারত্বসংক্রান্ত প্রতিবেদনে কিছু চীনা সরকারি অংশীদারকে যথাযথভাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল কি না। একই সঙ্গে উহান ইউনিভার্সিটির সঙ্গে ডিউকের সহযোগিতা এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
মার্কিন শিক্ষা বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, আগের কিছু প্রতিবেদনে বিদেশি সরকারি অংশীদারদের বেসরকারি বা সরকারি-বহির্ভূত প্রতিষ্ঠান হিসেবে উল্লেখ করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ডিউক ইউনিভার্সিটি কোনো আইন ভেঙেছে—এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো দেওয়া হয়নি। ডিউক জানিয়েছে, তারা সরকারি চিঠি পর্যালোচনা করছে এবং আইন মেনে চলার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ডাকোটার ক্ষেত্রে তদন্তের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হলো তাদের মহাকাশবিষয়ক স্কুলের মানববিহীন বিমান বা ড্রোন-সংক্রান্ত গবেষণা কর্মসূচি। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই কর্মসূচিতে চীনের কিছু বিমান চলাচল-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ও সম্পৃক্ততা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কয়েকটির চীনা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেও মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন।
নর্থ ডাকোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তি, গবেষণা সহযোগিতা, বিদেশি অর্থ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নথি চাওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিকে এসব নথি জমা দেওয়ার জন্য ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা ফেডারেল সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা করবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সময়মতো দেওয়ার জন্য কাজ করছে।
মার্কিন শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ৮ হাজার ৩০০টির বেশি বিদেশি লেনদেনের তথ্য প্রকাশ করেছে, যার মোট মূল্য ৫.২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। তবে বিদেশি অর্থ পাওয়া বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে গবেষণা সহযোগিতা থাকা নিজেই অবৈধ—এমন কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত নেই। তদন্তের মূল প্রশ্ন হলো, এসব লেনদেন আইন অনুযায়ী যথাযথভাবে প্রকাশ করা হয়েছিল কি না।
বর্তমানে ডিউক ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ডাকোটা—দুই প্রতিষ্ঠানকেই প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই বোঝা যাবে, বিদেশি অর্থ ও চুক্তির তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে কোনো আইনগত অনিয়ম হয়েছিল কি না। তাই তদন্ত চলাকালীন সময়ে চীনা অর্থ বা সহযোগিতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবকিছুকে অবৈধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।