পরমাণু স্থাপনায় হামলা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিল ইরান
ইরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা বা হামলার হুমকি কোনোভাবেই মেনে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তেহরান; আইএইএ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর পদক্ষেপ চেয়েছে দেশটি।
পরমাণু স্থাপনায় হামলা নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিল ইরান
ইরান পরমাণু স্থাপনায় যেকোনো ধরনের হামলা কিংবা হামলার হুমকির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) ৭০তম সাধারণ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে ইরানের রাষ্ট্রদূত ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে স্থায়ী প্রতিনিধি রেজা নাজাফি এ দাবি জানান।
নাজাফি বলেন, আইএইএর নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকা শান্তিপূর্ণ পরমাণু স্থাপনায় হামলা বা হামলার হুমকিকে কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক অজুহাতেই গ্রহণ করা উচিত নয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের হামলা শুধু সংশ্লিষ্ট দেশের জন্য নয়, বরং মানুষের জীবন, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্যও গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এবং চিকিৎসায় ব্যবহৃত রেডিওআইসোটোপ উৎপাদনও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরান আরও বলেছে, পরমাণু স্থাপনায় হামলাকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে মেনে নেওয়া হলে আন্তর্জাতিক পরমাণু নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধের বৈশ্বিক কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। দেশটির দাবি, আইএইএর নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের আওতাধীন স্থাপনায় হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক আইন ও সংস্থাটির সুরক্ষা ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ বিষয়ে ইরান জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ ও আইএইএর প্রতি দ্রুত ও ধারাবাহিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তেহরানের বক্তব্য, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিরোধের সমাধান সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনীতি, শান্তিপূর্ণ উপায় ও আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর মাধ্যমে করা উচিত।
একই সম্মেলনে ইরানসহ ১৫টি দেশ একটি যৌথ বিবৃতিতে আইএইএর নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের আওতাধীন শান্তিপূর্ণ পরমাণু স্থাপনায় হামলা বা হামলার হুমকির বিরোধিতা করেছে। বিবৃতিতে সতর্ক করা হয়, এ ধরনের হামলায় তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব সংশ্লিষ্ট দেশের সীমানা ছাড়িয়েও বেসামরিক জনগণ ও পরিবেশের ওপর পড়তে পারে।
ইরানের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন দেশটির পরমাণু স্থাপনা নিয়ে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। তবে ইরানের দাবিগুলোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের তথ্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।