পাকিস্তানের মসজিদে ভয়াবহ বোমা হামলায় নিহত ১৬, আহত ৫৬

জুমার নামাজের সময় পাকিস্তানের কোহাটে মসজিদে ভয়াবহ বোমা হামলায় নিহত ১৬, আহত ৫৬; এখনো কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি।

পাকিস্তানের মসজিদে ভয়াবহ বোমা হামলায় নিহত ১৬, আহত ৫৬

পাকিস্তানের মসজিদে ভয়াবহ বোমা হামলায় নিহত ১৬, আহত ৫৬


পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাট শহরে একটি মসজিদে ভয়াবহ বোমা হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৫৬ জন। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় পুলিশ স্থাপনার ভেতরে থাকা মসজিদের কাছে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি পুলিশ স্থাপনার বাইরের দেয়ালে ধাক্কা দেওয়ার পর বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর ঘটনাস্থলে গুলির শব্দও শোনা যায় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে হামলাকারীদের বন্দুকযুদ্ধ হয়। শক্তিশালী বিস্ফোরণে মসজিদ ও পুলিশ স্থাপনার একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং দেয়ালের কিছু অংশ ধসে পড়ে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ সদস্য এবং ১১ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। আহতদের মধ্যে মসজিদে জুমার নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরাও রয়েছেন। আহতদের দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

খাইবার পাখতুনখাওয়া পুলিশের প্রধান জুলফিকার হামিদ হামলাটিকে আত্মঘাতী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চালায়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে অন্তত একজন হামলাকারী নিহত হওয়ার কথাও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন হামলার দায় স্বীকার করেনি। পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি এবং আইএসআইএল-সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী সক্রিয় থাকলেও, তাদের কোনো সংগঠন এই হামলার সঙ্গে জড়িত—এমন নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো গোষ্ঠীকে হামলার জন্য দায়ী করা যাচ্ছে না।

সাম্প্রতিক সময়ে খাইবার পাখতুনখাওয়া ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে হামলার আগের দিন হাঙ্গু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি গাড়িবহরে বোমা হামলায় ছয় সেনা নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ। এসব ঘটনার কারণে দেশটির উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ হামলার তদন্ত শুরু করেছে এবং হামলাকারীদের পরিচয় ও হামলার পেছনের উদ্দেশ্য শনাক্তের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসা এবং ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর