ক্যালিফোর্নিয়ায় পরোয়ানাবিহীন অভিবাসন আটকে বিচারকের কঠোর নতুন নির্দেশ

দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের পরোয়ানাবিহীন আটকের ক্ষমতায় আদালতের সীমা, নথিভুক্ত কারণ ছাড়া আটক আরও কঠিন হয়ে গেল নতুন নির্দেশে আজ।

ক্যালিফোর্নিয়ায় পরোয়ানাবিহীন অভিবাসন আটকে বিচারকের কঠোর নতুন নির্দেশ

ক্যালিফোর্নিয়ায় পরোয়ানাবিহীন অভিবাসন আটকে বিচারকের কঠোর নতুন নির্দেশ


দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসন প্রয়োগ বা অভিবাসন আইন প্রয়োগ নিয়ে নতুন আদালতের নির্দেশ সামনে এসেছে। একটি ফেডারেল আদালত অভিবাসন কর্মকর্তাদের পরোয়ানাবিহীন গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে নতুন সীমা নির্ধারণ করেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে পরোয়ানা ছাড়া দেওয়ানি অভিবাসন মামলায় আটক করার আগে কর্মকর্তাদের ওই ব্যক্তির পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বা পরে তাকে খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে কি না—এসব পরিস্থিতি বিবেচনা করতে হবে। 

আদালতের এই আদেশ দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টে প্রযোজ্য। এর আওতায় লস অ্যাঞ্জেলেস, অরেঞ্জ, রিভারসাইড, সান বার্নার্ডিনো, ভেনচুরা, সান্তা বারবারা এবং সান লুইস ওবিসপো কাউন্টি রয়েছে। অর্থাৎ দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বড় একটি অঞ্চলে অভিবাসন কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট ধরনের পরোয়ানাবিহীন আটকের ক্ষেত্রে নতুন আইনি শর্ত তৈরি হয়েছে। 

বিষয়টির কেন্দ্রবিন্দু হলো—কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ অবস্থান ছাড়া আছেন, এই তথ্য একাই পরোয়ানা ছাড়া আটকের জন্য যথেষ্ট নয় বলে আদালত উল্লেখ করেছে। কর্মকর্তাদের পরিস্থিতির সামগ্রিক চিত্র বিবেচনা করতে হবে এবং গ্রেপ্তারের সম্ভাব্য কারণ যথাযথভাবে নথিভুক্ত করতে হবে।

এই বিষয়টি বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা বিভিন্ন ব্যবসা, রেস্তোরাঁ, পরিবহন, নির্মাণ, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য পেশায় কাজ করেন। তবে এই আদালতের আদেশ কোনো নির্দিষ্ট জাতীয়তার মানুষকে আলাদাভাবে সুবিধা বা ছাড় দিয়েছে—এমন দাবি করা সঠিক হবে না। আদেশটি নির্দিষ্ট আদালতের আওতাধীন এলাকায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ার ওপর প্রযোজ্য।

আদালতের নির্দেশটি এসেছে অভিবাসন অভিযান নিয়ে দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষাপটে। মামলাটি গত বছর আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া শাখা, পাবলিক কাউন্সেল এবং কয়েকটি অভিবাসী অধিকার সংগঠন দায়ের করেছিল। মামলায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযান, আটক এবং ব্যক্তিদের থামানোর পদ্ধতি নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। 

ফেডারেল বিচারক মামলাটিতে প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। আদেশটি ২ সেপ্টেম্বর দেওয়া হলেও বুধবার তা প্রকাশ্যে আসে। আদালত সরকারকে পরোয়ানা ছাড়া কাউকে আটকের ক্ষেত্রে ব্যক্তির পালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে কর্মকর্তার জানা সব পরিস্থিতি বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছে। 

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আদালত কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য কারণের তথ্য যথাযথভাবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। এর অর্থ হলো, কোনো ব্যক্তিকে কেন পরোয়ানা ছাড়া আটক করা হলো, তার আইনি ভিত্তি ও পরিস্থিতি পরে যাচাই করা সম্ভব হওয়ার মতো নথি থাকতে হবে।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেছিলেন, তারা যে অনেক আটকের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করেছেন, সেসব ক্ষেত্রে কর্মকর্তারা ব্যক্তিটি পালিয়ে যেতে পারেন—এমন ঝুঁকি মূল্যায়নের লিখিত প্রমাণ দেননি। সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য এই ব্যাখ্যার সঙ্গে ভিন্ন অবস্থান তুলে ধরা হয়েছিল। একজন ফেডারেল আইনজীবী আদালতে বলেন, এ ধরনের মূল্যায়ন নথিভুক্ত করার নির্দিষ্ট আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই এবং কর্মকর্তারা পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। 

বিচারক অবশ্য আদেশে বলেছেন, সরকারি নির্দেশনা, আটক সংক্রান্ত বিবরণ, কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং ভিডিওসহ বিভিন্ন প্রমাণ পর্যালোচনা করা হয়েছে। আদালতের মতে, কিছু ক্ষেত্রে বেআইনি অবস্থান বা তথাকথিত ভুল বক্তব্যকে কেন্দ্র করে পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়েছে, অথবা আদৌ কোনো মূল্যায়ন করা হয়নি—এমন প্রমাণ আদালতের সামনে এসেছে। 

তবে এই আদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের সব জায়গায় একই নিয়ম চালু হয়েছে বলে দেখানো যাবে না। এটি নির্দিষ্ট ফেডারেল আদালতের এখতিয়ারভুক্ত দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার এলাকায় প্রযোজ্য। অন্য রাজ্য বা অন্য ফেডারেল ডিস্ট্রিক্টে একই ধরনের নিয়ম থাকবে—এমন সরাসরি সিদ্ধান্ত এই আদেশ থেকে নেওয়া ঠিক নয়।

এর আগে একই অঞ্চলে অভিবাসন অভিযান নিয়ে আদালত ও সরকারের মধ্যে একাধিক আইনি বিরোধ হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, অন্য কয়েকটি এলাকাতেও ফেডারেল বিচারকেরা পরোয়ানাবিহীন আটকের কিছু পদ্ধতি নিয়ে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছেন। 

অভিবাসী পরিবারের জন্য এই খবরের একটি বাস্তব দিক হলো—কোনো ব্যক্তির অভিবাসন অবস্থা জটিল হলে শুধুমাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা কমিউনিটির গুজবের ওপর নির্ভর না করে নিজের আইনগত অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য জানা জরুরি। আদালতের একটি আদেশ কোনো ব্যক্তির সব ধরনের অভিবাসন ঝুঁকি বাতিল করে না।

যাদের অভিবাসন মামলা চলমান, তাদের ক্ষেত্রে মামলা নম্বর, আদালতের কাগজপত্র, অভিবাসন আবেদন সংক্রান্ত নথি এবং আইনজীবীর যোগাযোগের তথ্য সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো সরকারি কর্মকর্তা যোগাযোগ করলে পরিস্থিতি অনুযায়ী আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়াও প্রয়োজন হতে পারে।

এখানে আরও একটি বিষয় পরিষ্কার করা দরকার। আদালতের এই নির্দেশ অভিবাসন আইন বাতিল করেনি এবং অবৈধ অবস্থানে থাকা কোনো ব্যক্তিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈধ মর্যাদা দেয়নি। এটি মূলত পরোয়ানা ছাড়া আটকের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং নথিপত্রের ওপর আদালতের নির্দিষ্ট সীমা আরোপ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ নিয়ে চলমান আইনি বিতর্কের মধ্যে এই আদেশ নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তৈরি করেছে। সরকার আদেশের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেবে কি না এবং উচ্চ আদালতে এর অবস্থান কী হবে, তা ভবিষ্যতের বিষয়। বর্তমানে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সংশ্লিষ্ট এলাকায় আদালতের নির্দেশ কার্যকর রয়েছে বলে এপি জানিয়েছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর