জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নবীনবরণ কনসার্ট শেষে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নবীনবরণ কনসার্ট শেষে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত তিনজন, দুজনের মাথায় আঘাত, হাসপাতালে ভর্তি।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নবীনবরণ কনসার্ট শেষে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নবীনবরণ কনসার্ট শেষে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নবীনবরণ উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্ট শেষে সংগঠনটির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের সবাইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।


বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান ভবনসংলগ্ন মাঠ ও কাঁঠালতলা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে রাতে কনসার্টের আয়োজন করা হয়। সেখানে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবসহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কনসার্ট চলার সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুই পক্ষের নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক পক্ষের নেতৃত্বে থাকা মোস্তাফিজুর রহমান রুমির অনুসারীদের সঙ্গে অন্য পক্ষের নেতা সুমন সরদারের অনুসারীদের মধ্যে বিরোধ থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। তবে ঠিক কী কারণে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বিস্তারিত বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

সংঘর্ষে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শাওন ও আলিফ গুরুতর আহত হয়েছেন বলে বিডি২৪লাইভের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অপর আহত ব্যক্তি সুমন সরদারের পক্ষের বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


ঘটনার সময় অনুষ্ঠানস্থলে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব উপস্থিত ছিলেন। কনসার্টের মঞ্চের কাছাকাছি সময়ে সংঘর্ষ শুরু হওয়ায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অতিথিদের মধ্যেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের এই ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন ক্যাম্পাসে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নিয়মিত আলোচনা চলছে। এর আগে আগস্টেও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলসহ বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল।


তবে বুধবার রাতের সংঘর্ষের সঙ্গে আগের ঘটনাগুলোর সরাসরি কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে সংঘর্ষের পেছনে সাংগঠনিক কোনো সিদ্ধান্ত, ব্যক্তিগত বিরোধ নাকি তাৎক্ষণিক উত্তেজনা কাজ করেছে—এ বিষয়টিও এখনো স্পষ্ট নয়।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দায়িত্বশীল নেতাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সময় কারা প্রথমে হামলায় জড়িয়েছিল, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।


বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংগঠনের অনুষ্ঠান ঘিরে এ ধরনের সংঘর্ষ শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে এমন ঘটনা ঘটায় বিষয়টি ক্যাম্পাসে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এ ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা ও শারীরিক অবস্থার বিষয়ে পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, ছাত্রদল অথবা সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া গেলে ঘটনার বিস্তারিত চিত্র আরও পরিষ্কার হতে পারে।


বর্তমানে নিশ্চিত তথ্য অনুযায়ী, নবীনবরণ অনুষ্ঠানের কনসার্টকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে এবং এতে তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট কারণ ও দায় কার—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক তদন্তের তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষকে একতরফাভাবে দায়ী করা সমীচীন নয়।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর