ফিলাডেলফিয়ার ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ল্যারি ক্রাসনারের বিরুদ্ধে ফেডারেল তদন্তের সুপারিশ বিচারকের

একটি হত্যা মামলার রায় পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে ল্যারি ক্রাসনারকে ফেডারেল তদন্তের মুখে ফেলার নির্দেশ

ফিলাডেলফিয়ার ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ল্যারি ক্রাসনারের বিরুদ্ধে ফেডারেল তদন্তের সুপারিশ বিচারকের

ফিলাডেলফিয়ার ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ল্যারি ক্রাসনারের বিরুদ্ধে ফেডারেল তদন্তের সুপারিশ বিচারকের


যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ার ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ল্যারি ক্রাসনার ও তার শীর্ষ এক সহকারীর বিরুদ্ধে বিচার বিভাগে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফিলাডেলফিয়ার একটি বহুল আলোচিত হত্যা মামলার রায় পুনর্বিবেচনাকে কেন্দ্র করে ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কার্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে গম্ভীর আইনি প্রশ্ন ওঠার পর এই পদক্ষেপ নেন মার্কিন আদালতের একজন বিচারক।  
মার্কিন জেলা বিচারক পল এস ডায়মন্ড ৪০ পৃষ্ঠার এক বিস্তারিত স্মারকে ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ল্যারি ক্রাসনার এবং তার দণ্ড পুনর্বিবেচনা ইউনিটের প্রধান ম্যাথিউ স্টিগলারকে মামলাটি থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগে মিথ্যা তথ্য প্রদান, শপথভঙ্গ, বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি এবং ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর অভিযোগে ফৌজদারি তদন্ত শুরু করার সুপারিশ করা হয়েছে। 


 
ঘটনাটি ঘিরে রয়েছে ২০০৭ সালে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার পর ২০০৯ সালে দণ্ডিত ডেনিস জনসন নামের এক আসামির আপিল আবেদন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, ডেনিস জনসন তার দ্বিতীয় মাত্রার হত্যা মামলা ও দণ্ডাদেশ বাতিলের আবেদন জানান। মামলাটি পুনর্বিবেচনার জন্য যখন ফিলাডেলফিয়ার ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কার্যালয়ে পাঠানো হয়, তখন ল্যারি ক্রাসনারের কার্যালয় প্রথমে আসামির সাজা মওকুফ বা রায় পুনর্বিবেচনার পক্ষে অবস্থান নেয়। কিন্তু পরবর্তীতে বিচারক ও আদালতের পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই আবেদনের সমর্থনে উপস্থাপিত তথ্যে মারাত্মক অসঙ্গতি রয়েছে। 


 
শুনানিকালে প্রসিকিউশন কার্যালয়ের একাধিক সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা আদালতে সাক্ষ্য দেন। তাদের মধ্যে জুনিয়র প্রসিকিউটর জ্যাকলিন মেসনের সাক্ষ্য বেশ গুরুত্ব পায়। মেসন অভিযোগ করেন, মূল সাক্ষীদের সাক্ষ্য এবং নথি সঠিকভাবে যাচাই না করেই সাজা বাতিলের পক্ষে অবস্থান নিতে তাকে ওপর থেকে চাপ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে যখন এই ভুল প্রকাশ্যে আসে, তখন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ল্যারি ক্রাসনার এবং ম্যাথিউ স্টিগলার তাদের নিজেদের ভুল ঢাকতে মেসনকে দায়ী করে সব দোষ তার ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে আদালতে প্রমাণ পাওয়া যায়।  


বিচারক ডায়মন্ডের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি তার কার্যালয়ের ভুল বা অনিয়ম ঢাকতে মিথ্যা গল্প তৈরি করেন এবং সেই অনুযায়ী আদালতে তথ্য পেশ করার নির্দেশ দেন। এতে বিচারব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করা হয়। বিচারক উল্লেখ করেন যে আইন প্রয়োগকারী সর্বোচ্চ কর্মকর্তার কাছ থেকে এই ধরনের আচরণ আদালতের কাজকে ব্যাহত করেছে।  
তবে বিচারক ডায়মন্ড এই দুটি শীর্ষ কর্মকর্তাকে সরানো হলেও পুরো ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কার্যালয়কে ডেনিস জনসনের মামলাটি থেকে বাদ দেননি। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে নিরপেক্ষ অন্য একজন শীর্ষ কর্মকর্তার অধীনে মামলাটির মূল পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে। বিচারকের এই রেফারেল কোনো সরাসরি অপরাধের দণ্ড বা চূড়ান্ত রায় নয়, এটি মূলত বিচার বিভাগের কাছে তদন্তের আহ্বান। এখনও পর্যন্ত ক্রাসনার বা তার সহকারীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার বিভাগে কোনো চার্জ গঠন করা হয়নি।  


এই আদেশের জবাবে ল্যারি ক্রাসনার আদালতের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি এক বিবৃতিতে জানান, তিনি বিচারকের পর্যবেক্ষণের সাথে সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করছেন এবং উচ্চ আদালতে আপিল করবেন। তিনি দাবি করেন, তার কার্যালয় সর্বদা সততা ও স্বচ্ছতার সাথে ভুল রায় সংশোধন করে আসছে।  


অন্য দিকে মূল আসামি ডেনিস জনসনের দণ্ড মওকুফের আবেদনটি আদালতে এখনও বিবেচনাধীন অবস্থায় রয়েছে। এখন দেখার বিষয়, বিচার বিভাগ বিচারক ডায়মন্ডের এই সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে ল্যারি ক্রাসনার এবং ম্যাথিউ স্টিগলারের বিরুদ্ধে কত দ্রুত নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি তদন্তের পদক্ষেপ নেয়।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর