জাতিসংঘের সভাপতির দায়িত্বে খলিলুর রহমান, এক সপ্তাহেই শুরু ব্যস্ত কর্মযাত্রা
শপথের এক সপ্তাহ পর জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন খলিলুর রহমান, শুরু হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ও ব্যস্ত কূটনৈতিক কর্মযাত্রা।
জাতিসংঘের সভাপতির দায়িত্বে খলিলুর রহমান, এক সপ্তাহেই শুরু ব্যস্ত কর্মযাত্রা
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের এক সপ্তাহ পূর্তি উপলক্ষে শপথ গ্রহণ ও দায়িত্ব নেওয়ার দিনের কয়েকটি মুহূর্ত তুলে ধরেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, ঠিক এক সপ্তাহ আগে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন। সাধারণ পরিষদ কক্ষে শপথ গ্রহণ থেকে শুরু করে সভাপতির প্রতীকী হাতুড়ি গ্রহণ এবং নতুন কর্মবর্ষের কাজ শুরু—দায়িত্ব গ্রহণের দিনের বিভিন্ন মুহূর্ত তিনি স্মরণ করেছেন।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র সাত দিনের মধ্যেই নতুন অধিবেশনের কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়ে গেছে। তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। একই দিনে আগের ৮০তম অধিবেশনের সমাপ্তি এবং নতুন সভাপতির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘের সরকারি ওয়েবসাইটে ড. খলিলুর রহমানকে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
শপথ গ্রহণের পর তিনি সাধারণ পরিষদের প্রথম বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন। দায়িত্ব নেওয়ার সময় তিনি সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সংলাপ, সহযোগিতা ও সমঝোতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান সময়ে জাতিসংঘ ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা নানা ধরনের চাপের মুখে থাকলেও নতুন প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ক্ষেত্রে নতুন সুযোগও তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ৮১তম অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য হলো—“আস্থা পুনরুদ্ধার, পরিবর্তন ব্যবস্থাপনা: সবার জন্য কার্যকর জাতিসংঘ”। অধিবেশনটি ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত চলবে।
ড. খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে এই অধিবেশনে শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু ও পরিবেশ, মানবাধিকার ও মানবিক সহায়তা, শরণার্থী ও অভিবাসী সুরক্ষা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং জাতিসংঘ সংস্কারের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রকাশিত বক্তব্যে তাঁর সভাপতিত্বের অগ্রাধিকারের এসব ক্ষেত্র তুলে ধরা হয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের আগে ২ জুন ২০২৬ সাধারণ পরিষদের নির্বাচনে ড. খলিলুর রহমান ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনে তিনি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে তাঁর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ৯৯ এবং প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের আন্দ্রেয়াস কাকুরিসের ভোট ৯১ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের দিন বিদায়ী সভাপতি জার্মানির আনালেনা বেয়ারবক তাঁকে সাধারণ পরিষদের প্রতীকী কাঠের হাতুড়ি হস্তান্তর করেন। জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম ও প্রকাশিত ছবিতেও এই দায়িত্ব হস্তান্তরের মুহূর্ত দেখা যায়।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও নতুন সভাপতিকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি খলিলুর রহমানের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা, সংলাপ ও ঐকমত্য গঠনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তাঁর দায়িত্বকালে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে বাংলাদেশের জন্যও জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাগুলোতে দেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে রোহিঙ্গা সংকট বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৮১তম সাধারণ অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের কার্যক্রমের অংশ হিসেবে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের সাধারণ বিতর্ক ২২ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই সময়ে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও নিজ নিজ দেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরবেন।
খলিলুর রহমানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে উল্লেখ করা শপথ গ্রহণ, সভাপতির হাতুড়ি গ্রহণ এবং দায়িত্বের এক সপ্তাহের কর্মযাত্রার তথ্য জাতিসংঘের সরকারি নথি ও সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে “ঠিক এক সপ্তাহ আগে” কথাটি পোস্ট প্রকাশের তারিখের ওপর নির্ভরশীল—১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হলে তা ৮ সেপ্টেম্বরের ঘটনার সঙ্গে ঠিক সাত দিনের ব্যবধান নির্দেশ করে; ১৬ সেপ্টেম্বরের হিসাবে ব্যবধান আট দিন।