ইসরায়েলকে ২৮০ কোটি ডলারের ক্ষতিকর মারাত্মক বোমা দিচ্ছে ট্রাম্পের মার্কিন প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ভারী বোমা পাচ্ছে ইসরায়েল, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।

ইসরায়েলকে ২৮০ কোটি ডলারের ক্ষতিকর মারাত্মক বোমা দিচ্ছে ট্রাম্পের মার্কিন প্রশাসন

ইসরায়েলকে ২৮০ কোটি ডলারের ক্ষতিকর মারাত্মক বোমা দিচ্ছে ট্রাম্পের মার্কিন প্রশাসন


যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলের কংগ্রেসীয় কমিটিগুলোর কাছে ইতোমধ্যে এই বিশাল অস্ত্র চুক্তির কথা অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহৎ আকারের আন্তর্জাতিক সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির ক্ষেত্রে মার্কিন নীতি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটির অনুমোদন বা পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হয়। ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশেষ প্রতিবেদনে মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বরাতে এই গোপন আলোচনার বিষয়টি প্রথম জনসমক্ষে আসে।  
এমকে-৮৪ এবং বিএলইউ-১১৭ মডেলের ২০০০ পাউন্ডের এই ভারী বোমাগুলো মূলত বিশাল বহুতল ভবন, ভূগর্ভস্থ শক্ত সামরিক আস্তানা ও বাঙ্কার পুরোপুরি ধ্বংস করার জন্য তৈরি। তবে ঘনবসতিপূর্ণ বেসামরিক এলাকায় এই ধরনের বোমার ব্যবহার অত্যন্ত মারাত্মক এবং সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পদের জন্য অত্যন্ত প্রাণঘাতী। এর আগে গাজা উপত্যকা এবং লেবাননের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ব্যাপক হারে এই শক্তিশালী বোমা ব্যবহার করেছে। অধিকার কর্মী ও সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এত বিশাল ওজনের বোমার বিস্ফোরণ তরঙ্গ বহু দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে, যা বহুতল আবাসন মাটির সাথে মিশিয়ে দেয় এবং সাধারণ মানুষের প্রাণহানির ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।  


সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরো জটিল রূপ ধারণ করেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা আরও তীব্র আকার ধারণ করে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সমন্বিত বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এই সামরিক অভিযানের জবাবে ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সময়ে লেবানন সীমান্ত এবং গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর একের পর এক জোরালো হামলায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং লাখ লাখ সাধারণ নাগরিক গৃহহীন হয়ে শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।


অন্যদেখে ইসরায়েল তাদের সমস্ত সামরিক পদক্ষেপকে আত্মরক্ষা হিসেবে দাবি করে আসছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে হামাস পরিচালিত হামলায় এক হাজার দুইশত ইসরায়েলি নাগরিক নিহত হন এবং আড়াইশর বেশি মানুষকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেই ঘটনার পর থেকেই নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং হামাসের সামরিক অবকাঠামো পুরোপুরি ধ্বংস করতে তারা এই ব্যাপক সামরিক অভিযান পরিচালনা করছে।


তবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ইসরায়েলের এই কঠোর সামরিক পদক্ষেপ এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিরবচ্ছিন্ন সামরিক সহায়তার তীব্র সমালোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেই এই বিশাল অস্ত্র চালান নিয়ে রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। ক্ষমতাসীন প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মার্কিন ডেমোক্র্যাট রাজনীতিকদের বড় একটি অংশ সরব হয়ে উঠেছেন। সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও দেখা গেছে, সাধারণ আমেরিকানদের একটি বড় অংশ বিশ্বাস করে যে ওয়াশিংটন ইসরায়েলকে অন্যায্য ও মাত্রাতিরিক্ত সামরিক সুবিধা প্রদান করছে। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রশাসন তাদের ঘোষিত সামরিক পররাষ্ট্র নীতি বজায় রেখে ইসরায়েলকে এই বিশাল পরিমাণ ধ্বংসাত্মক বোমার চালান সরবরাহের প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছে।  


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর