১০৪ বছরের শারীরিক প্রতিবন্ধী হাফিজের আকুতি জীবনের শেষসময়ে একমুঠো অন্নের একটু আশ্বাস

একশত চার বছরের প্রবীণ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী হাফিজের জীবনের শেষ সময়ে আকুল মিনতি শুধু দুবেলা দুমুঠো অন্ন সংস্থানের আশ্বাস পেতে।

১০৪ বছরের শারীরিক প্রতিবন্ধী হাফিজের আকুতি জীবনের শেষসময়ে একমুঠো অন্নের একটু আশ্বাস

১০৪ বছরের শারীরিক প্রতিবন্ধী হাফিজের আকুতি জীবনের শেষসময়ে একমুঠো অন্নের একটু আশ্বাস


জীবনের শতবর্ষ পার করে ফেলা এক প্রবীণ মানুষের গল্প এটি। যে বয়সে মানুষের জীবন প্রদীপ নিভে আসার কথা, শান্তিতে পরিবেষ্টিত হয়ে আত্মীয়স্বজনের মাঝে থাকার কথা, সেই ১০৪ বছর বয়সে এসেও জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখে পড়ে দিশেহারা হতে হচ্ছে এক অসহায় প্রবীণকে। শারীরিক অসুস্থতা ও পঙ্গুত্ব নিয়ে তিনি প্রতিনিয়ত জীবনের সবচেয়ে মৌলিক অধিকার, অর্থাৎ অন্ন জোগাড়ের জন্য সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।
সমাজের চারপাশে যেখানে আধুনিকতার বিস্তার ও উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করা যায়, সেখানে মানব সভ্যতার এই প্রান্তিক স্তরে থেকে যাওয়া একজন মানুষের করুণ জীবনকাহিনী আমাদের বিবেকের সামনে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করে। তিনি একজন বয়োবৃদ্ধ এবং দৈহিক দিক থেকে চরম পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। সহায়-সম্বলহীন এই মানুষের জীবনে এখন কেবলই একাকীত্ব এবং চরম অভাব। জীবন সায়াহ্নে দাঁড়িয়ে তার চাওয়া-পাওয়া বলতে আর বিশেষ কিছু নেই। কোনো বৈষয়িক সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য কিংবা বিশাল প্রাচুর্যের স্বপ্ন তিনি দেখেন না। তার একমাত্র আকুল আকুতি হলো জীবনের এই বাকি দিনগুলোতে দুবেলা দুমুঠো খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য সামান্য একটু খাদ্যের বন্দোবস্ত।
প্রতিদিনের টিকে থাকার লড়াইয়ে তার শারীরিক অক্ষমতা সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একটি মানুষের জীবনে বৃদ্ধ বয়স এমনিতেই শারীরিক ক্লান্তি ও অক্ষমতা নিয়ে আসে। তার ওপর পঙ্গুত্ব তাকে পুরোপুরি অন্যের মুখাপেক্ষী ও চলাচলে চরম কষ্টসহিষ্ণু করে তুলেছে। ঘর থেকে বাইরে বের হওয়া কিংবা নিজের দৈনন্দিন প্রয়োজনগুলো মেটানো তার জন্য এখন এক দুঃসাধ্য ব্যাপার। এই শারীরিক অসুস্থতা ও পঙ্গুত্বের কারণে তিনি কাজ করে জীবনধারণ করার ক্ষমতা হারিয়েছেন বহু আগেই। ফলে নিয়মিত খাদ্যের অভাব তার দৈনন্দিন জীবনের ধ্রুব সত্য হয়ে উঠেছে।


নিঃসঙ্গতা এই বৃদ্ধের জীবনকে আরও বেশি দুর্বিষহ করে তুলেছে। জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে পাশে থাকার মতো স্বজন কিংবা আর্থিক সহায়তা করার মতো নির্ভরযোগ্য আশ্রয় তার নেই। একাকীত্বের অন্ধকার ঘর ও শারীরিক যাতনা মিলিয়ে তার জীবন দিন দিন থমকে যাচ্ছে। অভাবের তাড়নায় জীবনের প্রতি পদে পদে তাকে অবর্ণনীয় কষ্টের মুখোমুখী হতে হচ্ছে। দুমুঠো ভাতের জন্য এই হাহাকার কেবল এক ব্যক্তির দুঃখের গল্প নয়, এটি সমাজে বসবাসকারী অগণিত প্রবীণ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি প্রতিচ্ছবি।


আমাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় অতি প্রবীণ এবং অসহায় মানুষদের জন্য যেসব সুরক্ষাবলয় রয়েছে, তা অনেক সময়ই মাঠপর্যায়ে সঠিক ব্যক্তির কাছে পৌঁছাতে বিঘ্ন ঘটে। যার ফলে ১০৪ বছর বয়সে এসেও এমন মানুষদের অনাহারে ও চরম অর্থসংকটে দিন কাটাতে হয়। কোনো বিশেষ অনুগ্রহ নয়, বরং একজন মানুষ হিসেবে মৌলিক খাদ্যের চাহিদা পূরণ ও বেঁচে থাকার একটু নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার এই প্রবীণ মানুষেরও রয়েছে।
আজ সমাজের বিত্তবান, মানবতাবাদী ব্যক্তিত্ব এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রবীণ এই ব্যক্তির জীবন রক্ষায় এগিয়ে আসার জোরালো তাগিদ তৈরি হয়েছে। জীবনের শেষ লগ্নে দাঁড়ানো একজন নিঃসঙ্গ ও পঙ্গু মানুষকে একটু মানবিক সহযোগিতা দান করা আমাদের নৈতিক দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় এনে যদি এই প্রবীণ ব্যক্তির চিকিৎসার সুব্যবস্থা এবং নিয়মিত খাদ্য নিশ্চয়তার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হয়, তবেই তার এই দীর্ঘ জীবনের অবসান অন্তত কিছুটা শান্তিতে হতে পারে। সমাজের সম্মিলিত প্রয়াস ও অনুকম্পাই পারে এই শতবর্ষী বৃদ্ধের জীবনে শেষ বেলায় খাদ্যের ন্যূনতম নিশ্চয়তা এনে দিতে।


সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর