পোকামাকড় দিয়েই এআই শেখালেন, জাতীয় চ্যাম্পিয়ন নর্থ ক্যারোলিনার শিক্ষিকা
পোকামাকড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে দ্বিতীয় শ্রেণির শিশুদের এআই শেখানোর অভিনব প্রকল্প তৈরি করে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হলেন নর্থ ক্যারোলিনার শিক্ষিকা ক্যারি রোবলেডো।
পোকামাকড় দিয়েই এআই শেখালেন, জাতীয় চ্যাম্পিয়ন নর্থ ক্যারোলিনার শিক্ষিকা
নর্থ ক্যারোলিনার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষিকা ক্যারি রোবলেডো ছোট শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শেখানোর অভিনব উদ্যোগের জন্য ২০২৬ সালের প্রথম প্রেসিডেন্সিয়াল এআই চ্যালেঞ্জে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। তাঁর তৈরি ‘এআই ইনসেক্ট ডিটেকটিভস’ প্রকল্পের মাধ্যমে শিশুদের পরিচিত পরিবেশ, পোকামাকড় ও প্রকৃতিকে কাজে লাগিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রাথমিক ধারণা শেখানো হয়েছে।
রোবলেডো নর্থ ক্যারোলিনার স্টার এলিমেন্টারি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষিকা। তাঁর প্রকল্পে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন পোকামাকড় পর্যবেক্ষণ করে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে কোনো বিষয় শনাক্ত করতে পারে, সে সম্পর্কে ধারণা পায়। এতে প্রযুক্তির পাশাপাশি বিজ্ঞান ও প্রকৃতি সম্পর্কে তাদের আগ্রহও বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা নিজেরাই পোকামাকড় শনাক্ত করার একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল প্রশিক্ষণ দেয়। মডেলটি কোথায় ভুল করছে, কেন ভুল করছে এবং কীভাবে আরও ভালো তথ্য ব্যবহার করে সেটিকে উন্নত করা যায়—এসব বিষয়ও তারা পর্যবেক্ষণ করে। ফলে খুব অল্প বয়সেই তারা তথ্য বিশ্লেষণ, সমস্যা সমাধান, পর্যবেক্ষণ ও যুক্তিভিত্তিক চিন্তার মতো দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পায়।
জটিল প্রযুক্তির বিষয়কে শিশুদের কাছে সহজ করে তুলতেই প্রকল্পটিতে পরিচিত ও আনন্দদায়ক বিষয় বেছে নেওয়া হয়েছে। পোকামাকড় নিয়ে কাজ করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কোনো বিষয় শনাক্ত করতে শেখাতে হলে পর্যাপ্ত ও সঠিক তথ্য প্রয়োজন। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সবসময় সঠিক উত্তর দেয় না এবং ভুলের কারণ খুঁজে সেটিকে উন্নত করাও শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ—এ ধারণাও তারা হাতে-কলমে পায়।
২০২৬ সালের প্রেসিডেন্সিয়াল এআই চ্যালেঞ্জে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নানা প্রকল্প উপস্থাপন করেন। শিক্ষাক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং বাস্তব সমস্যার সমাধানে নতুন প্রজন্মের দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়টি এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। সেই প্রতিযোগিতায় রোবলেডোর প্রকল্প জাতীয় পর্যায়ে বিশেষ স্বীকৃতি অর্জন করে।
রোবলেডোর এই অর্জনকে নর্থ ক্যারোলিনার শিক্ষাক্ষেত্রের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রথম নারী মেলানিয়া ট্রাম্পও তাঁর উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন এবং জাতীয় পর্যায়ে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে একজন শিক্ষিকা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।
এই স্বীকৃতি দেখিয়ে দিচ্ছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শেখানোর জন্য সবসময় জটিল প্রযুক্তি বা বড় গবেষণাগারের প্রয়োজন হয় না। শিশুদের পরিচিত পরিবেশ, কৌতূহল এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে প্রযুক্তিকে যুক্ত করেও তাদের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা তৈরি করা সম্ভব।
ক্যারি রোবলেডোর ‘এআই ইনসেক্ট ডিটেকটিভস’ প্রকল্প তাই শুধু একটি শ্রেণিকক্ষের শিক্ষামূলক কার্যক্রম নয়; এটি ছোট বয়স থেকেই শিশুদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, পর্যবেক্ষণ ও উদ্ভাবনী চিন্তার সঙ্গে যুক্ত করার একটি উদাহরণ। জাতীয় পর্যায়ে তাঁর স্বীকৃতি ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের জন্য শিশুদের প্রস্তুত করতে এ ধরনের সৃজনশীল শিক্ষাপদ্ধতির গুরুত্বও সামনে এনেছে।