মিস্ট্রিয়ালের পর লিন্ডসে মামলার জুরির পরিবারে নিরাপত্তা শঙ্কা

লিন্ডসে ক্ল্যান্সি মামলায় মিস্ট্রিয়ালের পর এক জুরি সদস্যের পরিবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। পরিবারের দাবি, তাঁদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি।

মিস্ট্রিয়ালের পর লিন্ডসে মামলার জুরির পরিবারে নিরাপত্তা শঙ্কা

মিস্ট্রিয়ালের পর লিন্ডসে মামলার জুরির পরিবারে নিরাপত্তা শঙ্কা


যুক্তরাষ্ট্রের বহুল আলোচিত লিন্ডসে ক্ল্যান্সি হত্যা মামলায় মিস্ট্রিয়াল ঘোষণার পর এক জুরি সদস্যকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। ওই জুরি সদস্য ছিলেন ১২ জনের প্যানেলের একমাত্র সদস্য, যিনি ক্ল্যান্সিকে মানসিক অসুস্থতার কারণে অপরাধের জন্য দায়ী নয়—এমন সিদ্ধান্তে সম্মত হননি। সাত দিন ধরে আলোচনা চলার পরও জুরি সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় ৪ সেপ্টেম্বর বিচারক মিস্ট্রিয়াল ঘোষণা করেন।

মিস্ট্রিয়ালের পর ওই জুরি সদস্যের পরিবারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা বলা হয়েছে। তাঁর ভাই সংবাদমাধ্যমকে দাবি করেছেন, পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না এবং তাঁদের মায়ের বাড়িতেও বিভিন্ন ধরনের নোট রেখে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে স্বাধীনভাবে বিস্তারিত যাচাই বা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। তাই পরিবারের এই বক্তব্যকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে, প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে নয়।

জুরি সদস্যের সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে তাঁর ক্যাথলিক ধর্মীয় বিশ্বাস সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করেছিল—এমন কথাও ছড়িয়েছে। তবে তাঁর ভাই সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, সিদ্ধান্তের সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্বাসের কোনো সম্পর্ক ছিল না। তাঁর দাবি, জুরি সদস্য মামলায় উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতেই নিজের অবস্থান নিয়েছিলেন। ধর্মীয় বিশ্বাসই সিদ্ধান্তের কারণ ছিল—এমন কোনো আদালত-প্রতিষ্ঠিত তথ্য এখন পর্যন্ত সামনে আসেনি।

মামলার কয়েকজন সাবেক জুরি সদস্য ওই একমাত্র জুরি সদস্যের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি কেন তাঁদের সঙ্গে একমত হননি, তা ব্যাখ্যা করতে পর্যাপ্ত প্রমাণ বা সাক্ষ্যের নির্দিষ্ট উদাহরণ দিতে পারেননি। তবে এগুলো অন্য জুরি সদস্যদের বক্তব্য; আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে ওই ব্যক্তিকে কোনো অসদাচরণের জন্য দায়ী করা হয়েছে এমন তথ্য নেই।

মামলার মূল বিচারেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল লিন্ডসে ক্ল্যান্সির মানসিক অবস্থা। ক্ল্যান্সি তাঁর তিন সন্তানকে হত্যা করার বিষয়টি অস্বীকার করেননি। তবে তাঁর আইনজীবীর দাবি ছিল, ঘটনার সময় তিনি প্রসব-পরবর্তী মানসিক জটিলতা বা মানসিক বিকারের মধ্যে ছিলেন এবং সে কারণে তাঁকে ফৌজদারি দায়ে দায়ী করা উচিত নয়। প্রসিকিউশন পক্ষের অবস্থান ছিল ভিন্ন। তারা দাবি করে, ক্ল্যান্সি নিজের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সচেতন ছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডের জন্য তাঁকে দায়ী করা উচিত।

জুরি আলোচনায় শেষ পর্যন্ত ১১ জন সদস্য ক্ল্যান্সিকে মানসিক অসুস্থতার কারণে ফৌজদারি দায় থেকে অব্যাহতির পক্ষে ছিলেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একজন জুরি সদস্য এতে সম্মত না হওয়ায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত সম্ভব হয়নি। তবে এই বিভাজনকে সরাসরি ‘একজনের কারণে রায় আটকে গেছে’ হিসেবে দেখার ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন, কারণ একজন জুরি সদস্যের স্বাধীনভাবে ভিন্নমত পোষণ করা নিজেই বেআইনি নয়। প্রশ্ন ছিল তিনি আদালতের দেওয়া আইনগত নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেছিলেন কি না—এ নিয়ে পরবর্তীতে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

মিস্ট্রিয়ালের পর আদালত জুরি সদস্যদের পরিচয় গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিচারক উইলিয়াম সুলিভান নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার উদ্বেগের কথা বিবেচনা করে তাঁদের পরিচয় অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য সিল করে দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে মামলাটি ঘিরে তীব্র প্রতিক্রিয়ার মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মিস্ট্রিয়াল মানে লিন্ডসে ক্ল্যান্সি খালাস পেয়েছেন—এমন নয়। একইভাবে তাঁকে দোষীও সাব্যস্ত করা হয়নি। জুরি সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় বিচারটি নিষ্পত্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। এখন প্রসিকিউশন তাঁকে পুনরায় বিচারের মুখোমুখি করবে কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

এ মুহূর্তে সবচেয়ে সতর্কভাবে বলা যায়, লিন্ডসে ক্ল্যান্সির মামলায় চূড়ান্ত রায় হয়নি। জুরি সদস্যের সিদ্ধান্ত, তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের অভিযোগ—সবকিছু নিয়েই নানা দাবি ও পাল্টা দাবি রয়েছে। এর কোনটি সত্য এবং কোনটি কেবল পক্ষগুলোর বক্তব্য, তা আলাদা করে দেখাই এই মামলার খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর