বিমানে পোশাক খুলে অস্বাভাবিক কাণ্ড, অবতরণের পর নারী আটক

খবরটি নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে তৈরি হয় চরম অস্বস্তি। মাঝআকাশে অস্বাভাবিক আচরণের পর মিয়ামিতে অবতরণ করতেই ওই নারীকে হেফাজতে নেয় কর্তৃপক্ষ।

বিমানে পোশাক খুলে অস্বাভাবিক কাণ্ড, অবতরণের পর নারী আটক

বিমানে পোশাক খুলে অস্বাভাবিক কাণ্ড, অবতরণের পর নারী আটক


যুক্তরাষ্ট্রে একটি উড়োজাহাজে মাঝআকাশে এক নারী যাত্রীর অস্বাভাবিক আচরণকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আমেরিকান এয়ারলাইনসের বাল্টিমোর থেকে মিয়ামিগামী একটি ফ্লাইটে ওই নারী পোশাক খুলে ফেলেন এবং অন্য যাত্রীদের সামনে আপত্তিকর আচরণ করেন বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ঘটনাটি ঘটে আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট ১৭৭৯-এ। বিমানটি বাল্টিমোর/ওয়াশিংটন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মিয়ামির উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। উড্ডয়নের পর বিমানের ভেতরে ওই নারী যাত্রীর আচরণ নিয়ে কেবিন ক্রুরা পরিস্থিতিটি লক্ষ্য করেন এবং বিষয়টি ককপিটে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্মীদের জানান।

কেবিন ক্রুদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই নারী যাত্রী বিমানের ৯ নম্বর সারির একটি আসনে বসেছিলেন। একপর্যায়ে তিনি নিজের পোশাক খুলে ফেলেন এবং আশপাশের যাত্রীদের সামনে আপত্তিকর আচরণ করতে থাকেন। এতে বিমানের ভেতরে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়।

ঘটনার পর বিমানটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়। একই সঙ্গে বিমানটি মিয়ামিতে পৌঁছানোর পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়। ফলে ফ্লাইটটি গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি সম্পর্কে অবহিত ছিল।

তবে মাঝআকাশে ওই পরিস্থিতি সামাল দিতে কেবিন ক্রুরা ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছিলেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তারা ওই নারীকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন, তাকে আলাদা করে রাখা হয়েছিল কি না কিংবা অন্য যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল এসব বিষয় এখনো স্পষ্ট নয়।

ঘটনার কারণে বিমানটিকে জরুরি অবতরণ করতে হয়নি। ফ্লাইটটি শেষ পর্যন্ত মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানটি গন্তব্যে পৌঁছানোর পর আগে থেকেই অপেক্ষায় থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তারা ওই নারী যাত্রীকে হেফাজতে নেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিস্তারিত তথ্য জানতে যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে ওই নারীর এমন আচরণের কারণ কী ছিল, তিনি কোনো ধরনের মানসিক বা শারীরিক সমস্যার মধ্যে ছিলেন কি না, কিংবা তার বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে এখনো পর্যাপ্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

বিমানের ভেতরে ওই নারী যাত্রীর পোশাক খুলে ফেলা ও আপত্তিকর আচরণের ঘটনা এবং ফ্লাইট অবতরণের পর তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। তবে ফ্লাইট চলাকালে কেবিন ক্রুরা ঠিক কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছিলেন, সেই অংশটি এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর