৯ কোটি ৩০ লাখ ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতি, ভারতীয় খাদির খান মোহাম্মদকে খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র
৯ কোটি ৩০ লাখ ডলারের কথিত মেডিকেয়ার জালিয়াতিতে ভারতীয় নাগরিক খাদির খান মোহাম্মদকে পলাতক ঘোষণা করে খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষ।
৯ কোটি ৩০ লাখ ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতি, ভারতীয় খাদির খান মোহাম্মদকে খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল অঙ্কের কথিত স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির অভিযোগে ভারতীয় নাগরিক খাদির খান মোহাম্মদকে খুঁজছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের মহাপরিদর্শকের কার্যালয় তাকে ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নতুন পলাতক আসামি হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।
কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, খাদির খান মোহাম্মদ টেক্সাসের রিচার্ডসনে অবস্থিত আমেরিকান প্রিমিয়ার ল্যাবস এলএলসি নামের প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন। ওই প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে তিনি প্রায় ৯ কোটি ৩০ লাখ ডলারের কথিত ভুয়া মেডিকেয়ার দাবি জমা দেওয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ ৪৪ বছর বয়সী ভারতের নাগরিক এবং রিচার্ডসনে বসবাস করতেন। ২০২৫ সালে উত্তর টেক্সাসের ফেডারেল আদালতে তার বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, তার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে জেনেটিক পরীক্ষাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত পরীক্ষার নামে মেডিকেয়ারে বিপুল অঙ্কের দাবি জমা দেওয়া হয়েছিল। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব দাবির একটি বড় অংশ ছিল মিথ্যা বা প্রতারণামূলক।
এই মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি তদন্তের অংশ। ২০২৫ সালের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ দেশজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রায় ১ হাজার ৪৬০ কোটি ডলারের কথিত জালিয়াতি ঘিরে ব্যাপক অভিযান ও অভিযোগের তথ্য প্রকাশ করেছিল। ওই অভিযানে টেক্সাসের বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়।
মোহাম্মদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৯ কোটি ৩০ লাখ ডলারকে তার ব্যক্তিগতভাবে চুরি করা অর্থ হিসেবে সরাসরি উল্লেখ করা ঠিক হবে না। সরকারি অভিযোগ অনুযায়ী, তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ওই পরিমাণ কথিত প্রতারণামূলক মেডিকেয়ার দাবি জমা দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ এটি মূলত বিলিং ও স্বাস্থ্যসেবা দাবির সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগ।
বর্তমানে তাকে পলাতক হিসেবে খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের মহাপরিদর্শকের কার্যালয়। সংস্থাটি তাদের পলাতক তালিকায় তার নাম প্রকাশ করেছে এবং জনগণের কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়। কারণ মেডিকেয়ার হচ্ছে বয়স্ক ও নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষের চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য ব্যবহৃত একটি বিশাল সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি। ভুয়া দাবি বা প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা বা পরীক্ষা দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ হলে তা সরাসরি সরকারি তহবিলের ওপর প্রভাব ফেলে।
এই ধরনের মামলায় তদন্তকারীরা সাধারণত চিকিৎসক, পরীক্ষাগার, রোগী, বিলিং প্রতিষ্ঠান এবং মধ্যস্থতাকারীদের তথ্য যাচাই করে থাকেন। কোনো পরীক্ষা সত্যিই করা হয়েছিল কি না, চিকিৎসকের অনুমোদন ছিল কি না, রোগীর চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছিল কি না এবং জমা দেওয়া বিল প্রকৃত সেবার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আসে।
খাদির খান মোহাম্মদের ক্ষেত্রেও তদন্তকারীদের মূল অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে জমা দেওয়া মেডিকেয়ার দাবিকে কেন্দ্র করে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে আইনগতভাবে দোষী বলা যাবে না। তিনি আদালতে নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিরুদ্ধে আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রাখেন।