অনলাইন জুয়ার ঋণ, নিজেকেই অপহরণ দেখিয়ে পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি

অনলাইন জুয়ার ঋণ শোধে নিজেকেই অপহরণের নাটক, পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি।

অনলাইন জুয়ার ঋণ, নিজেকেই অপহরণ দেখিয়ে পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি

অনলাইন জুয়ার ঋণ, নিজেকেই অপহরণ দেখিয়ে পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি


অনলাইন জুয়ায় আসক্ত হয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ার পর সেই ঋণের টাকা পরিশোধ করতে নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়ে পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। পরে র‌্যাবের অভিযানে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রকাশিত প্রতিবেদন ও র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ওই যুবকের নাম আরিফুর রহমান, বয়স ২৯ বছর। অনলাইন জুয়ায় জড়িয়ে পড়ে তিনি প্রায় দুই থেকে তিন লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন বলে র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। সেই ঋণের চাপ থেকেই পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করেন তিনি।

ঘটনার শুরু ঢাকার কুড়িল বিশ্বরোড এলাকা থেকে। গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় তিনি সেখানে এক বন্ধুর সঙ্গে ছিলেন। পরে বন্ধুকে রেখে সেখান থেকে চলে যান এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

পরদিন তার ব্যবহৃত নম্বর থেকে পরিবারের এক সদস্যের কাছে ফোন আসে। ফোনে দাবি করা হয়, আরিফুরকে অপহরণ করা হয়েছে। তাকে জীবিত অবস্থায় ফেরত পেতে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হতে পারে বলেও হুমকি দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবার বিষয়টি গুরুতর মনে করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শরণাপন্ন হয়। এ ঘটনায় ঢাকার ভাটারা থানায় অভিযোগ ও মামলা করা হয়। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কথিত অপহরণের বিষয়টি তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের একপর্যায়ে র‌্যাব জানতে পারে, কথিত অপহরণের শিকার আরিফুর ঢাকায় নেই। তিনি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকায় অবস্থান করছেন। পরে র‌্যাব-৭ সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবের কাছে তিনি অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে ঋণগ্রস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সেই ঋণ পরিশোধের জন্য পরিবারের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার উদ্দেশ্যেই নিজের অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন বলে র‌্যাবের বরাতে জানানো হয়েছে।

অর্থাৎ, পরিবার যে ঘটনাটিকে সত্যিকারের অপহরণ মনে করেছিল, তদন্তে সেটি অপহরণ নয় বরং ওই যুবকের নিজের সাজানো পরিকল্পনা হিসেবে সামনে আসে। তবে পরিবার তার দাবিকৃত পাঁচ লাখ টাকা দেওয়ার আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

পরে আরিফুর রহমানকে সীতাকুণ্ড থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, অনলাইন জুয়ার আর্থিক ক্ষতি অনেক সময় ব্যক্তিগত ঋণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে প্রতারণা, পারিবারিক সংকট এবং শেষ পর্যন্ত আইনগত জটিলতায় জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করে আসছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর