আগ্নেয়গিরির ভয়ংকর অগ্ন্যুৎপাতের ছবি তুলতে গিয়ে নিখোঁজ পাঁচ সাংবাদিক

আগ্নেয়গিরির ভয়ংকর অগ্ন্যুৎপাতের দৃশ্য ধারণ করতে গিয়ে নিখোঁজ পাঁচ সাংবাদিকসহ আটজন। উত্তাল সমুদ্রে চলছে মরিয়া উদ্ধার অভিযান, প্রিয়জনদের অপেক্ষায় বাড়ছে উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠা প্রতিটি মুহূর্তে।

আগ্নেয়গিরির ভয়ংকর অগ্ন্যুৎপাতের ছবি তুলতে গিয়ে নিখোঁজ পাঁচ সাংবাদিক

আগ্নেয়গিরির ভয়ংকর অগ্ন্যুৎপাতের ছবি তুলতে গিয়ে নিখোঁজ পাঁচ সাংবাদিক


ইন্দোনেশিয়ার সক্রিয় আগ্নেয়গিরি আনাক ক্রাকাতাউয়ের অগ্ন্যুৎপাতের ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন পাঁচ সাংবাদিক। তাদের সঙ্গে থাকা দ্রুতগতির নৌযানটিতে আরও দুই নৌকর্মী ও একজন পথপ্রদর্শক ছিলেন। ফলে নৌযানটিতে থাকা মোট আটজনের সঙ্গেই বর্তমানে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা যৌথভাবে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার বিকেলে। সাংবাদিকদের দলটি ইন্দোনেশিয়ার বান্তেন প্রদেশের কারিতা এলাকার একটি ঘাট থেকে স্পিডবোটে করে আনাক ক্রাকাতাউয়ের উদ্দেশে রওনা হয়। তাদের লক্ষ্য ছিল সাম্প্রতিক অগ্ন্যুৎপাতের ছবি, ভিডিও ও অন্যান্য দৃশ্য ধারণ করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ সরবরাহ করা। আগ্নেয়গিরিটির কার্যক্রম তখনও চলমান থাকায় ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। নির্ধারিত এলাকায় পৌঁছানোর পর কোনো এক পর্যায়ে নৌযানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিখোঁজদের একজন সর্বশেষ তার এক সহকর্মীর সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের অবস্থানের তথ্য জানিয়েছিলেন। এরপর থেকে তার সঙ্গে আর কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ সময় ধরে নৌযানটির কোনো সন্ধান না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়। পরে তাদের সন্ধানে সমুদ্রপথে অনুসন্ধান শুরু করে উদ্ধারকারী দল।

নিখোঁজ সাংবাদিকদের মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আন্তারার একজন আলোকচিত্রীও রয়েছেন। এছাড়া স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত সাংবাদিকরা ওই দলে ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো তাদের কর্মীদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং তাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছে।

নিখোঁজদের সন্ধানে সুন্দা প্রণালির বিস্তীর্ণ জলসীমায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। উদ্ধারকারী দল সর্বশেষ জানা অবস্থানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান করছে। সমুদ্রের স্রোতে নৌযানটি অন্যদিকে ভেসে গিয়ে থাকতে পারে—এমন সম্ভাবনাও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এ কারণে অনুসন্ধানের পরিধি ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়েছে এবং আশপাশের দ্বীপ ও জলসীমাতেও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

তবে উদ্ধার অভিযানে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে সমুদ্রের প্রতিকূল পরিস্থিতি। উত্তাল পানি, খারাপ আবহাওয়া এবং কম দৃশ্যমানতার কারণে নিখোঁজদের খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে সক্রিয় আগ্নেয়গিরির কাছাকাছি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করায় উদ্ধারকারী দলকেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি অনুকূল না থাকায় দিনের কোনো কোনো সময় তল্লাশি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।

নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটেছে, যখন আনাক ক্রাকাতাউয়ে নতুন করে শক্তিশালী অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়েছে। আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাই ও ধোঁয়ার মেঘ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। অগ্ন্যুৎপাতের ছাই আকাশপথেও প্রভাব ফেলেছে এবং এর কারণে ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি বিমানবন্দরে বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও নৌযানগুলোকে আগ্নেয়গিরির কাছাকাছি না যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে।

আনাক ক্রাকাতাউ ইন্দোনেশিয়ার অন্যতম পরিচিত সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। এটি ঐতিহাসিক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরির ধ্বংসের পর গড়ে ওঠা নতুন আগ্নেয় দ্বীপ। ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ ক্রাকাতাউ অগ্ন্যুৎপাত বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত হিসেবে ইতিহাসে স্থান পেয়েছে। পরবর্তী সময়ে আনাক ক্রাকাতাউয়ের কার্যক্রমও একাধিকবার বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে ২০১৮ সালে আগ্নেয়গিরির একটি অংশ ধসে পড়ার পর সৃষ্ট সুনামিতে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়।

বর্তমান ঘটনায় নিখোঁজ পাঁচ সাংবাদিকসহ আটজনের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, তাদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং আবহাওয়া ও সমুদ্রের পরিস্থিতি অনুকূলে এলে তল্লাশি আরও জোরদার করা হবে। নিখোঁজ সাংবাদিকদের পরিবার, সহকর্মী ও সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমগুলো দ্রুত তাদের সন্ধান পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এ ঘটনায় পুরো ইন্দোনেশিয়ায় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং সক্রিয় আগ্নেয়গিরির কাছে সংবাদ সংগ্রহের ঝুঁকি নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর