মধ্যবিত্তই আমেরিকা গড়েছে, ইউনিয়ন গড়েছে মধ্যবিত্ত: শ্রমিকদের প্রতি বাইডেনের কৃতজ্ঞতা

বাইডেনের বার্তা, শ্রমিক ও ইউনিয়নই আমেরিকার শক্তিশালী মধ্যবিত্ত গড়েছে, দেশের অর্থনীতির পেছনে তাদের অবদান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে কৃতজ্ঞতা জানালেন তিনি।

মধ্যবিত্তই আমেরিকা গড়েছে, ইউনিয়ন গড়েছে মধ্যবিত্ত: শ্রমিকদের প্রতি বাইডেনের কৃতজ্ঞতা

মধ্যবিত্তই আমেরিকা গড়েছে, ইউনিয়ন গড়েছে মধ্যবিত্ত: শ্রমিকদের প্রতি বাইডেনের কৃতজ্ঞতা


যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আবারও দেশটির অর্থনীতি ও সমৃদ্ধিতে শ্রমিক এবং শ্রমিক ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন। এক বার্তায় তিনি বলেন, তাঁর পুরো রাজনৈতিক ক্যারিয়ারজুড়েই তিনি একটি কথা বলে আসছেন—আমেরিকার মধ্যবিত্ত শ্রেণি দেশটি গড়ে তুলেছে এবং শ্রমিক ইউনিয়নগুলো মধ্যবিত্ত শ্রেণি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বাইডেন তাঁর বক্তব্যে বিশেষভাবে সেইসব শ্রমিকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন, যারা প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে কাজে হাজির হন, অতিরিক্ত সময় কাজ করেন কিংবা ন্যায্য মজুরি ও কর্মপরিবেশের দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেন।

তিনি বলেন, আমেরিকার অর্থনীতি শুধু বড় ব্যবসা, করপোরেশন বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হয় না; এর পেছনে রয়েছে লাখ লাখ সাধারণ কর্মজীবী মানুষের শ্রম। কারখানা, নির্মাণকাজ, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, পরিষেবা খাতসহ বিভিন্ন পেশায় কর্মরত মানুষ প্রতিদিনের শ্রমের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন।

শ্রমিক ইউনিয়নের ভূমিকাকেও বাইডেন বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইউনিয়নগুলো দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা, সুবিধা এবং নিজেদের অধিকার নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। এর মাধ্যমে শ্রমিকদের দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়ে এবং একটি শক্তিশালী মধ্যবিত্ত শ্রেণি গড়ে ওঠে।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নথিতেও বাইডেনের এই অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যায়। ২০২২ সালের শ্রম দিবসের ঘোষণায় তিনি বলেন, শ্রমিক ইউনিয়নগুলো উচ্চ মজুরি ও পারিবারিক সুবিধার জন্য লড়াই করেছে, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার মান উন্নত করেছে এবং শ্রমিকদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে অংশীদার হওয়ার সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে।

২০২৪ সালের শ্রম দিবসের ঘোষণাতেও বাইডেন শ্রমিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের অবদানের কথা তুলে ধরেন। সেখানে তিনি বলেন, ইউনিয়ন কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের কণ্ঠস্বর শক্তিশালী করেছে এবং ভালো মজুরি ও সুবিধার জন্য লড়াই করেছে।

বাইডেনের অর্থনৈতিক দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ‘মধ্যবিত্ত থেকে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি’ ধারণা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণ কর্মজীবী পরিবারগুলোর আয় ও আর্থিক নিরাপত্তা বাড়লে সামগ্রিক অর্থনীতিও শক্তিশালী হয়। এ কারণেই তিনি অবকাঠামো, উৎপাদনশিল্প ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সময় শ্রমিকদের জন্য ভালো মজুরির চাকরি এবং ইউনিয়নভিত্তিক কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

তিনি বিভিন্ন বক্তব্যে অবকাঠামো নির্মাণ, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, বৈদ্যুতিক গাড়ি, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি এবং অন্যান্য শিল্পে আমেরিকান শ্রমিকদের জন্য ভালো বেতনের চাকরি তৈরির কথা বলেছেন। তাঁর প্রশাসনের অর্থনৈতিক কর্মসূচির মধ্যে অবকাঠামো আইন, চিপস ও বিজ্ঞান আইন এবং মুদ্রাস্ফীতি হ্রাস আইন ছিল উল্লেখযোগ্য।

বাইডেনের শ্রমিকপন্থী অবস্থানের আরেকটি দিক হলো তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পরিচয়। তিনি বহু বছর ধরে নিজেকে শ্রমিক ও ইউনিয়নের ঘনিষ্ঠ রাজনীতিক হিসেবে তুলে ধরেছেন। বিভিন্ন বক্তব্যে তিনি তাঁর শৈশবের পেনসিলভানিয়ার স্ক্র্যান্টন এবং ডেলাওয়্যারের ক্লেমন্ট এলাকার কর্মজীবী মানুষের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর রাজনৈতিক বক্তৃতায় শ্রমিক পরিবারের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা এবং মধ্যবিত্ত শ্রেণির শক্তিশালী অবস্থান নিয়মিতভাবে উঠে এসেছে।

২০২৪ সালের ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কনভেনশনেও বাইডেন একই বার্তা দেন। তিনি বলেন, আমেরিকার মধ্যবিত্ত দেশটি গড়ে তুলেছে এবং ইউনিয়ন মধ্যবিত্ত শ্রেণি গড়ে তুলেছে। একই বক্তব্যে তিনি নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম শ্রমিক ও ইউনিয়নপন্থী প্রেসিডেন্ট হিসেবে তুলে ধরেন।

তবে তাঁর বক্তব্য মূলত একটি রাজনৈতিক ও আদর্শগত অবস্থান। “ইউনিয়নই মধ্যবিত্ত শ্রেণি তৈরি করেছে”—এটি সরাসরি কোনো একক অর্থনৈতিক পরিমাপের ফল নয়; বরং শ্রমিক অধিকার, মজুরি, কর্মপরিবেশ এবং মধ্যবিত্তের বিকাশে ইউনিয়নের ঐতিহাসিক ভূমিকা বোঝাতে ব্যবহৃত একটি রাজনৈতিক বক্তব্য।

যুক্তরাষ্ট্রে শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যসংখ্যা ও প্রভাব সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। তবু শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার অধিকার, সম্মিলিত দরকষাকষি এবং ন্যায্য মজুরি নিয়ে বিতর্ক এখনো দেশটির রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বাইডেনের সর্বশেষ বার্তার মূল বক্তব্যও সেখানেই—আমেরিকার অর্থনৈতিক সাফল্যের পেছনে সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং যারা কর্মক্ষেত্রে ন্যায্য অধিকার ও মজুরির জন্য লড়াই করেন, তাদের প্রতি সম্মান জানানো।

তিনি শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, আমেরিকার দেশ পরিচালনার বড় একটি অংশ তাদের শ্রমের ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ তাঁর বার্তার কেন্দ্রবিন্দু হলো—দেশের অর্থনীতি ও সমাজের ভিত্তি হিসেবে সাধারণ কর্মজীবী মানুষের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর