১৬ বছরের কিশোর ধর্ষণ মামলায় ৯০ দিনের সাজা শেষে মুক্ত সাবেক মার্কিন মেয়র
লুইজিয়ানার সাবেক মেয়র মিস্টি রবার্টস ১৬ বছরের কিশোর ধর্ষণ মামলায় ৯০ দিনের সাজা শেষে মুক্ত হয়েছেন, ক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের ছোট শহর ডি-রিডারের সাবেক মেয়র মিস্টি রবার্টস ১৬ বছরের এক কিশোরকে যৌন নিপীড়নের মামলায় ৯০ দিনের কারাদণ্ড ভোগ শেষে মুক্তি পেয়েছেন। বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
৪৪ বছর বয়সী মিস্টি রবার্টস ২০১৮ সাল থেকে ডি-রিডার শহরের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে তাঁর বাড়িতে আয়োজিত একটি সুইমিং পুল পার্টিতে তিনি ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে যৌন নিপীড়ন করেন। ভুক্তভোগী ওই কিশোর ছিলেন তাঁর ছেলের বন্ধু এবং স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
ঘটনার তদন্ত শুরু হওয়ার পর ২০২৪ সালের আগস্টে রবার্টস মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর ২০২৬ সালের মার্চে জুরি বোর্ড তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে। তাঁর বিরুদ্ধে “কার্নাল নলেজ অব অ্যা জুভেনাইল” এবং “ইনডিসেন্ট বিহেভিয়ার উইথ অ্যা মাইনর” নামে দুটি গুরুতর অপরাধ প্রমাণিত হয়।
আইন অনুযায়ী, এসব অপরাধে তাঁর সর্বোচ্চ ১৭ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারত। তবে বিচারক কেন্ট সাভোয়ে তাঁকে মাত্র ৯০ দিনের কারাদণ্ড দেন। এই রায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধে এত কম সাজা ভুক্তভোগীর প্রতি অবিচার।
কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত রবার্টসকে যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধন, ৫ হাজার ডলার জরিমানা প্রদান, নিয়মিত মাদক পরীক্ষা এবং মানসিক চিকিৎসা গ্রহণের নির্দেশ দেয়। ভবিষ্যতে শর্ত ভঙ্গ করলে তাঁর স্থগিত পাঁচ বছরের কারাদণ্ড কার্যকর হতে পারে।
রায় ঘোষণার সময় মিস্টি রবার্টস আদালতে নিজের দায় স্বীকার করে বলেন, তিনি নিজের কাজের জন্য অনুতপ্ত এবং ভুক্তভোগী পরিবারের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। তবে ভুক্তভোগীর মা আদালতে তাঁকে “শিকারি” আখ্যা দিয়ে কঠোর শাস্তির দাবি জানান।
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শুরুতে ৯০ দিনের সাজা সম্পন্ন করে রবার্টস মুক্তি পান। তবে মামলাটি এখনো যুক্তরাষ্ট্রে শিশু সুরক্ষা আইন, ক্ষমতাবান ব্যক্তিদের জবাবদিহি এবং বিচারব্যবস্থায় সমতার প্রশ্নে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।




