সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও স্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদের নথি পেল এফবিআই
যুক্তরাষ্ট্রে দুদকের অনুরোধে সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা এবং সম্পত্তির গুরুত্বপূর্ণ নথি তদন্তের জন্য বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে।
সাবেক ভূমিমন্ত্রী ও স্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদের নথি পেল এফবিআই
সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী রুকমিলা জামানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা ও সম্পত্তির রেকর্ড দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাতে এসেছে। বিষয়টি সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুদকের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা ও সম্পত্তির তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ থেকে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) পাঠানো হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের অফিস অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স ওই অনুরোধ ২০২৫ সালের ১৯ মে গ্রহণ করে।
বাংলাদেশের অনুরোধের পর যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) তদন্তসংক্রান্ত নথি প্রস্তুত করে। দুদকের কাছে পাঠানো নথির মধ্যে রয়েছে এফবিআইয়ের এফডি-৩০২ তদন্ত প্রতিবেদন এবং ওই প্রতিবেদনে বর্ণিত সম্পত্তির রেকর্ড। এসব নথি একটি সিডিতে করে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
দুদকের আবেদনে শুধু সম্পদের তথ্য চাওয়া হয়নি; যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কথিত অপরাধলব্ধ সম্পদ জব্দ ও বাজেয়াপ্তের বিষয়েও সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এমএলএআরে চাওয়া আরও কিছু তথ্যের বিষয়ে পরবর্তী সময়ে জবাব দেওয়া হবে। সম্পদ জব্দ ও বাজেয়াপ্তের বিষয়েও পৃথকভাবে জবাব দেওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে দুদকের তদন্তে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রীর বিদেশে থাকা বিপুল সম্পদের তথ্য সামনে আসে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা জানিয়েছিল, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রে তাঁদের মোট ৫৮০টি অ্যাপার্টমেন্টের তথ্য দুদকের তদন্তে পাওয়া গিয়েছিল—এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ছিল ৯টি।
এ ছাড়া দুদক তাঁদের বিভিন্ন দেশে থাকা সম্পদ ও আর্থিক লেনদেন নিয়েও তদন্ত চালিয়ে আসছে। ২০২৬ সালের আগস্টে দুদক সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রীসহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংক থেকে প্রায় ১৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে তিনটি মামলা করে। মামলার অভিযোগে অর্থ যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশে পাচারের কথা উল্লেখ করা হয়।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এফবিআইয়ের নথি দুদকের হাতে আসা মানেই আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়ে গেছে—এমন নয়। বর্তমানে এসব তথ্য বাংলাদেশের চলমান তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার অংশ। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদ জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করতে হলে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে হবে।