তিন সন্তান লালনে কষ্ট, ৮ মাসের শিশুকে এক লাখ টাকায় বিক্রি
তিন সন্তান লালনে অসহায় মা-বাবা, আট মাসের শিশুকে এক লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য।
তিন সন্তান লালনে কষ্ট, ৮ মাসের শিশুকে এক লাখ টাকায় বিক্রি
ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলায় আট মাস বয়সী এক শিশুকে এক লাখ টাকায় বিক্রির অভিযোগ উঠেছে তার বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে। তবে শিশুটির বাবা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, সন্তানকে বিক্রি করা হয়নি; লালন-পালনের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য এক নিঃসন্তান আত্মীয়ের কাছে শিশুটিকে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি উপজেলার চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ চেঁচরী গ্রামের। শিশুটির নাম রুম্মান হাওলাদার। তার বাবা সোহাগ হাওলাদার, বয়স ৪৩ বছর। স্থানীয় ও সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার চরখালী এলাকার লিপি বেগম নামের এক নিঃসন্তান নারীর কাছে শিশুটিকে দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় এক লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে। বিষয়টি ৬ সেপ্টেম্বর দুপুরে স্থানীয়ভাবে জানাজানি হলে এলাকায় আলোচনা শুরু হয়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোহাগ হাওলাদার আগে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। প্রায় ১০ বছর আগে তিনি শরীয়তপুরের আলো আক্তারকে বিয়ে করেন। এই দম্পতির তিন ছেলে সন্তান ১০ বছর বয়সী আলীফ হাওলাদার, পাঁচ বছর বয়সী আরিফ হাওলাদার এবং আট মাস বয়সী রুম্মান হাওলাদার।
শিশুটির মা আলো আক্তার জানিয়েছেন, তিনি অসুস্থ। তিনটি সন্তানকে একসঙ্গে লালন-পালন করতে গিয়ে তিনি সমস্যায় পড়ছিলেন। এ কারণে ছোট সন্তানটির লালন-পালনের দায়িত্ব একজন আত্মীয়কে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তার দাবি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, শিশুটিকে বিক্রি করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে শিশুটির ফুফু পারভিন বেগম অভিযোগ করেছেন, শিশুটিকে এক লাখ টাকার বিনিময়ে দেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য, পরিবারের আর্থিক বা পারিবারিক সমস্যা থাকলে তাদের জানানো উচিত ছিল। তারা শিশুটির দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত ছিলেন। টাকা নিয়ে শিশুকে অন্যের কাছে দেওয়ার বিষয়টি তিনি মেনে নিতে পারছেন না এবং প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শাহিন খানও শিশুটিকে বিক্রির খবর পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে তিনি বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ, শিশুটিকে আইনগত অর্থে বিক্রি করা হয়েছে কি না এবং কথিত এক লাখ টাকা কী উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছিল—এসব বিষয়ে এখনো স্থানীয়ভাবে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের তথ্য প্রকাশ হয়নি।
ঘটনাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—একদিকে শিশুটির মায়ের অসুস্থতা এবং তিন সন্তানকে লালন-পালনের সমস্যার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে পরিবারের একজন সদস্য সরাসরি অর্থের বিনিময়ে শিশুটিকে হস্তান্তরের অভিযোগ তুলেছেন। ফলে ঘটনাটি কেবল পারিবারিক সিদ্ধান্ত, নাকি অর্থের বিনিময়ে শিশুকে হস্তান্তরের ঘটনা—তা নির্ধারণের জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
শিশুর বাবা সোহাগ হাওলাদার স্পষ্টভাবে দাবি করেছেন, তিনি কোনো টাকা নেননি এবং শিশুটিকে লালন-পালনের জন্য আত্মীয়ের কাছে দিয়েছেন। বিপরীতে স্থানীয় সূত্রের বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এক লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে। তাই বর্তমানে ঘটনাটিকে নিশ্চিতভাবে ‘শিশু বিক্রি’ হিসেবে উপস্থাপন করার পরিবর্তে ‘শিশু বিক্রির অভিযোগ’ বলা তথ্যগতভাবে বেশি সতর্ক ও সঠিক।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে মামলা, গ্রেপ্তার বা শিশুটিকে উদ্ধার করে বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন বলে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তবে শিশুটির পরিচয় ও পরিবারের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অতিরঞ্জিত বা যাচাই-বিহীন তথ্য ছড়ানো থেকে বিরত থাকা জরুরি। একই সঙ্গে শিশুটির নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ এবং সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।