যুক্তরাষ্ট্রের বি১ বি২ ভিসাধারীদের জন্য নতুন সতর্কবার্তা, নিয়ম ভাঙলে ভিসা বাতিল হতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রের বি১ বি২ ভিসাধারীদের ভ্রমণ, চিকিৎসা ও ব্যবসার অনুমোদিত উদ্দেশ্য মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস।

যুক্তরাষ্ট্রের বি১ বি২ ভিসাধারীদের জন্য নতুন সতর্কবার্তা, নিয়ম ভাঙলে ভিসা বাতিল হতে পারে

যুক্তরাষ্ট্রের বি১ বি২ ভিসাধারীদের জন্য নতুন সতর্কবার্তা, নিয়ম ভাঙলে ভিসা বাতিল হতে পারে


যুক্তরাষ্ট্রের বি১/বি২ ভিজিটর ভিসা ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। ভিসাধারীদের অনুমোদিত ভ্রমণের উদ্দেশ্য মেনে চলতে এবং ভিসার শর্ত লঙ্ঘন না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

আজ প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিউ এজ জানিয়েছে, ঢাকার মার্কিন দূতাবাস বি১/বি২ ভিসাধারীদের মনে করিয়ে দিয়েছে—এই ভিসা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বেতনভুক্ত চাকরি করা, নিয়মিত একাডেমিক পড়াশোনা করা বা জন্ম পর্যটনের উদ্দেশ্যে ভ্রমণ করা অনুমোদিত নয়।

বি১ ভিসা সাধারণত ব্যবসায়িক সফরের জন্য এবং বি২ ভিসা পর্যটন, চিকিৎসা ও স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের মতো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়। ভিসা হাতে থাকলেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা তৈরি হয় না; চূড়ান্ত প্রবেশের সিদ্ধান্ত বিমানবন্দরে মার্কিন সীমান্ত কর্মকর্তারা নেন।

ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ভিসা-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বি১/বি২ ভিসার ক্ষেত্রে বর্তমানে একটি ভিসা বন্ডের নিয়মও রয়েছে। ২১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে যোগ্য বাংলাদেশি আবেদনকারীদের সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড দিতে হতে পারে।

তবে এই বন্ডের নিয়ম এবং আজকের সতর্কবার্তা এক বিষয় নয়। বন্ড দেওয়া হলেও ভিসাধারীকে ভিসার অনুমোদিত উদ্দেশ্য মেনে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে হবে।

বিশেষ করে বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—বি১/বি২ ভিসা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে চাকরি শুরু করা বা নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা করা যাবে না। এসব উদ্দেশ্যের জন্য আলাদা উপযুক্ত ভিসা বা অভিবাসন-সংক্রান্ত অনুমতি প্রয়োজন হতে পারে। দূতাবাসের তথ্য উদ্ধৃত করে নিউ এজ।

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও ভিসা নীতি বর্তমানে কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ইস্যু করা বিপুলসংখ্যক বি১/বি২ ভিসা পর্যালোচনা এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বাতিলের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিল।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা করছেন—এমন কিছু বি১/বি২ ভিসাধারী এই পর্যালোচনার আওতায় আসতে পারেন। তাই যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার আগে ভিসাধারীদের নিজেদের ভ্রমণের উদ্দেশ্য, থাকার সময়সীমা এবং ভিসার শর্ত সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ভিসা নিয়ে বাংলাদেশিদের জন্যও সাম্প্রতিক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। ৭৫ দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা ইস্যু স্থগিত রাখার আগের নীতি আদালতের রায়ের পর আর কার্যকর নেই বলে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য থেকে জানা যায়।

তবে অভিবাসী ভিসা এবং বি১/বি২ ভিজিটর ভিসা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। তাই অভিবাসী ভিসা-সংক্রান্ত কোনো আদালতের সিদ্ধান্তকে সরাসরি পর্যটন বা ব্যবসায়িক ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য মনে করা ঠিক হবে না।

বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য মূল বার্তা হলো—বি১/বি২ ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে ভিসার অনুমোদিত উদ্দেশ্যের বাইরে কাজ বা পড়াশোনা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বা প্রবেশাধিকারে সমস্যা তৈরি হতে পারে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর