দিল্লিতে ছয়তলা ভবন ধস, কংক্রিটের নিচে বহু মানুষ আটকা পড়ার আশঙ্কা নয়াদিল্লির

দিল্লিতে ছয়তলা ভবন ধসে ধ্বংসস্তূপে বহু মানুষ আটকা, উদ্ধার অভিযানে ফায়ার সার্ভিস ও এনডিআরএফের একাধিক দল ঘটনাস্থলে।

দিল্লিতে ছয়তলা ভবন ধস, কংক্রিটের নিচে বহু মানুষ আটকা পড়ার আশঙ্কা নয়াদিল্লির

দিল্লিতে ছয়তলা ভবন ধস, কংক্রিটের নিচে বহু মানুষ আটকা পড়ার আশঙ্কা নয়াদিল্লির


দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সত্য নিকেতন এলাকায় রোববার দুপুরে একটি বহুতল ভবন ধসে পড়েছে। ভবনটি শিক্ষার্থীদের পেইং-গেস্ট (পিজি) আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হতো বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ধসের পর বেশ কয়েকজন মানুষ, যাদের মধ্যে শিক্ষার্থীও রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দিল্লি ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ জানিয়েছে, দুপুর প্রায় ১টা ৩০ মিনিটের দিকে ভবন ধসের খবর পাওয়া যায়। খবর পেয়ে দমকলের একাধিক গাড়ি, পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। পরে জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে যোগ দেন। 

উদ্ধার অভিযান চলার মধ্যেই কয়েকজনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত বের করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অন্তত একজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছেন; আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে মোট কতজন আটকা রয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। 

স্থানীয় একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, ভবনটি শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য ব্যবহৃত হতো এবং ধসের পর ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকে সাহায্যের জন্য চিৎকার শোনা গেছে। দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির স্থানীয় বিধায়ক অনিল শর্মাও জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়া কয়েকজন শিক্ষার্থী ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। তবে ঠিক কতজন আটকা রয়েছেন, সে সংখ্যা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।

ভবনটির উচ্চতা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে পাঁচ ও ছয়তলা—দুই ধরনের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তবে বিভিন্ন সূত্রই একমত যে এটি একটি বহুতল আবাসিক ভবন এবং সেখানে শিক্ষার্থীদের পিজি আবাসন ছিল। তাই নিহত ও আটকা পড়াদের সঠিক সংখ্যা নিয়ে কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত সংখ্যা প্রকাশ না করাই নিরাপদ। 

প্রাথমিক প্রতিবেদনে আরও জানা গেছে, ভবনটির বেসমেন্টে নির্মাণকাজ চলছিল। স্থানীয়দের কেউ কেউ এটিকে ধসের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে এখনো কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্ঘটনার কারণ নিশ্চিত করেনি। ভবনটির কাঠামোগত অবস্থা, নির্মাণকাজ এবং নিরাপত্তাবিধি মানা হয়েছিল কি না—এসব বিষয় তদন্তের পরই ধসের প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে। 

সত্য নিকেতন এলাকা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ ক্যাম্পাসের কাছাকাছি এবং এখানে শিক্ষার্থী আবাসন, পিজি ও খাবারের দোকানসহ অনেক স্থাপনা রয়েছে। সরু ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার কারণে উদ্ধারকাজেও বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। উদ্ধারকারীরা ভারী যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত দল ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর