যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিউবান ও আফগান ছয় অভিবাসীকে প্রথমবার গায়ানায় পাঠাল ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় দেশে নির্বাসন নীতির আওতায় কিউবা ও আফগানিস্তানের ছয় নাগরিক গায়ানায় পৌঁছেছেন, তারা এখন অবস্থান নির্ধারণের অপেক্ষায় রয়েছেন সেখানে।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিউবান ও আফগান ছয় অভিবাসীকে প্রথমবার গায়ানায় পাঠাল ট্রাম্প প্রশাসন
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতিতে তৃতীয় দেশে বহিষ্কারের নতুন অধ্যায়ে গায়ানা যুক্ত হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যবস্থায় কিউবা ও আফগানিস্তানের ছয় নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গায়ানায় পাঠানো হয়েছে।
গায়ানার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ছয়জন শুক্রবার দেশটিতে পৌঁছান। তাদের মধ্যে কিউবা ও আফগানিস্তানের নাগরিক রয়েছেন। গায়ানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের যাচাই করে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড পাওয়া যায়নি।
তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের মূল কারণ ছিল অভিবাসনসংক্রান্ত বিষয়, অপরাধ নয়।
গায়ানার পররাষ্ট্রসচিব জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও গায়ানার মধ্যে কয়েক মাস আলোচনার পর এই ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে। চুক্তিটি এক বছরের জন্য কার্যকর থাকবে এবং এটি স্থায়ী পুনর্বাসন হিসেবে বিবেচিত হবে না।
গায়ানায় অবস্থানরত ব্যক্তিদের পরবর্তী অভিবাসন পরিস্থিতি নির্ধারণ করা হবে। তারা ভবিষ্যতে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারেন অথবা অন্য কোনো দেশে স্থানান্তরিত হতে পারেন।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা এই প্রক্রিয়ায় সহায়তা করবে। গায়ানা জানিয়েছে, এসব ব্যক্তির আবাসন ও সহায়তার ব্যয় দেশটির সরকার বহন করবে না।
ট্রাম্প প্রশাসন গত কয়েক মাসে এমন তৃতীয় দেশে বহিষ্কারের ব্যবস্থা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাড়িয়েছে। এর ফলে এমন ব্যক্তিদের নিয়ে নতুন আইনি ও মানবিক প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, যারা নিজ দেশে ফেরত গেলে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
অভিবাসন অধিকারকর্মীরা বলছেন, কোনো ব্যক্তিকে এমন দেশে পাঠানোর আগে সেখানে তার নিরাপত্তা, আইনি মর্যাদা এবং দেশে ফেরার সম্ভাব্য ঝুঁকি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি।
গায়ানায় ছয়জনের আগমন তাই শুধু একটি বহিষ্কার অভিযান নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন তৃতীয়-দেশভিত্তিক অভিবাসন নীতির বিস্তারের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ।