ইরানের তিন তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বাড়ল নতুন যুদ্ধের উত্তেজনা
মার্কিন বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে ইরানের তিনটি তেলবাহী জাহাজে আঘাত করেছে, এতে যুদ্ধ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দ্রুত বাড়ছে এখন।
ইরানের তিন তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে আবারও বাড়ল নতুন যুদ্ধের উত্তেজনা
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সামরিক সংঘাত নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ৫ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইরানের তিনটি অপরিশোধিত তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দুটি মার্কিন নৌযানের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। এর জবাব হিসেবেই তেলবাহী জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করা হয়। মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, জাহাজগুলো এমন একটি গোপন তেল পরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত ছিল, যেখান থেকে ইরানের বিপ্লবী গার্ড ও আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর অর্থায়ন হচ্ছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি জাহাজ ইরানের খার্গ দ্বীপের কাছে অবস্থান করছিল। মার্কিন হামলায় দুটি জাহাজ অচল এবং আরেকটি ধ্বংস হয়েছে বলে মার্কিন পক্ষ জানিয়েছে। হামলায় মার্কিন সেনা বা নৌসদস্যদের হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এই ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ খার্গ দ্বীপ ইরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি অবকাঠামোগুলোর একটি। ফলে তেল পরিবহন ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক স্থাপনা এবং যোগাযোগ অবকাঠামোয় হামলা চালায়। ইরান পাল্টা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও মিত্রদের অবস্থান লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের কারণে এরই মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে সংঘাত আরও দীর্ঘ হলে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে জ্বালানি, পরিবহন ও পণ্যের দামেও প্রভাব পড়তে পারে।