আমেরিকার চাকরির বাজারে ধীরগতি, আগস্টে কর্মসংস্থান বাড়ার প্রত্যাশায় নজর এখন বেকারত্বের দিকে
আগস্টে আমেরিকায় চাকরি বাড়ার প্রত্যাশা থাকলেও শ্রমবাজারে নিয়োগ ধীর, বেকারত্ব ও মজুরি নিয়ে কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আবার।
আমেরিকার চাকরির বাজারে ধীরগতি, আগস্টে কর্মসংস্থান বাড়ার প্রত্যাশায় নজর এখন বেকারত্বের দিকে
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার এখন এমন একটি পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে ব্যাপক ছাঁটাই দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু নতুন নিয়োগও খুব দ্রুত বাড়ছে না। শুক্রবার প্রকাশিত হওয়ার কথা থাকা আগস্টের কর্মসংস্থান প্রতিবেদনের আগে অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসে এমন একটি ধীরগতির শ্রমবাজারের চিত্র উঠে এসেছে।
রয়টার্সের অর্থনীতিবিদদের জরিপ অনুযায়ী, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৫৬ হাজার নতুন চাকরি যোগ হতে পারে। জুলাইয়ে দেশটি ২৩ হাজার চাকরি হারিয়েছিল। বেকারত্বের হার জুলাইয়ের ৪ দশমিক ১ শতাংশের কাছাকাছি থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস ছিল আগস্টে প্রায় ৬৫ হাজার চাকরি যোগ হতে পারে এবং বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশে উঠতে পারে। বিভিন্ন জরিপে সংখ্যার কিছু পার্থক্য থাকলেও একটি বিষয়ে মিল রয়েছে—চাকরি বৃদ্ধির গতি বেশ দুর্বল।
জুলাইয়ের সরকারি শ্রমবাজার প্রতিবেদনে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের অ-কৃষি খাতে কর্মসংস্থান ২৩ হাজার কমেছিল। একই সময়ে বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ১ শতাংশ। স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মসংস্থান বাড়লেও স্থানীয় সরকারি শিক্ষা ও খুচরা ব্যবসায় কর্মসংস্থান কমেছিল।
আগস্টের বেসরকারি কর্মসংস্থানের তথ্যও খুব শক্তিশালী ছিল না। এডিপির হিসাবে আগস্টে বেসরকারি খাতে ৩৮ হাজার চাকরি বেড়েছে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বিপরীতে উৎপাদন ও কিছু পেশাগত খাতে কর্মসংস্থান কমেছে।
এ পরিস্থিতিকে অর্থনীতিবিদেরা অনেক সময় কম নিয়োগ ও কম ছাঁটাই—দুইয়ের সমন্বিত বাজার হিসেবে দেখছেন। অর্থাৎ যারা চাকরিতে আছেন তাদের অনেকের চাকরি তাৎক্ষণিকভাবে ঝুঁকিতে নেই, কিন্তু নতুন চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সুযোগ পাওয়া আগের তুলনায় কঠিন হতে পারে।
এটি বিশেষভাবে তরুণ, নতুন গ্র্যাজুয়েট এবং কর্মজীবন পরিবর্তন করতে চাওয়া ব্যক্তিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শ্রমবাজারে নিয়োগ ধীর হলে একই চাকরির জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়তে পারে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে।
বেতন বৃদ্ধির গতিও শ্রমবাজারের গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক। পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগস্টে বার্ষিক মজুরি বৃদ্ধির হার প্রায় ৩ শতাংশের কাছাকাছি থাকতে পারে। অর্থনীতির অন্যান্য ব্যয় বাড়ার সঙ্গে তুলনা করলে কর্মীদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
শ্রমবাজারের আরেকটি বড় বিষয় হলো কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর পরিবর্তন। অবসর গ্রহণ, বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অভিবাসন কমে যাওয়ার কারণে শ্রমশক্তির আকারেও চাপ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে কিছু শিল্পে কর্মী খুঁজে পাওয়া কঠিন হতে পারে, আবার অন্যদিকে নতুন নিয়োগের গতি কম থাকতে পারে।
অভিবাসন নীতির পরিবর্তনও শ্রমবাজারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করছেন। বিশেষ করে অস্থায়ী সুরক্ষিত মর্যাদা হারানো কিছু অভিবাসীর কর্মসংস্থান পরিবর্তন শ্রমবাজারের পরিসংখ্যানে প্রভাব ফেলতে পারে।
এই চাকরির প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শ্রমবাজার দুর্বল হলে সুদের হার কমানোর চাপ তৈরি হতে পারে, আবার মূল্যস্ফীতি বেশি থাকলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ও বিবেচনা করতে পারে।
তবে শুধু একটি মাসের চাকরির সংখ্যা দিয়ে পুরো অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা যায় না। শ্রমবাজারের ধারাবাহিক প্রবণতা, মজুরি, কর্মসংস্থানের অংশগ্রহণ এবং বেকারত্ব—সবগুলো সূচক একসঙ্গে দেখতে হয়।
জুলাইয়ের দুর্বল ফলাফলের পর আগস্টে কিছুটা চাকরি বৃদ্ধি হলে সেটি স্বস্তির বার্তা হতে পারে। কিন্তু যদি বৃদ্ধির পরিমাণ খুব কম হয়, তাহলে অর্থনীতিতে নিয়োগের ধীরগতি অব্যাহত রয়েছে—এমন ধারণা আরও শক্তিশালী হতে পারে।