নেপালের ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে, নিখোঁজ হাজারো মানুষকে খুঁজছে পরিবার
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় এক হাজারের বেশি প্রাণহানি, হাজারো মানুষ নিখোঁজ; স্বজনদের অপেক্ষা এখনো শেষ হয়নি দেশজুড়ে।
নেপালের ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে, নিখোঁজ হাজারো মানুষকে খুঁজছে পরিবার
গত সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস নেপালের বহু পরিবারকে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। কোথাও ঘরবাড়ি ভেসে গেছে, কোথাও যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়েছে, আবার কোথাও পরিবারের সদস্য নিখোঁজ হওয়ার পর স্বজনেরা দিনের পর দিন তাদের ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন।
রয়টার্সের প্রকাশিত ছবির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে শোক ও উৎকণ্ঠা বাড়ছে। অনেক পরিবার নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্মরণে প্রতীকী শেষকৃত্যও পালন করছে, কারণ দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তাদের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
পরিস্থিতির সবচেয়ে বেদনাদায়ক দিক হলো, নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করা এবং নিখোঁজদের খুঁজে বের করা—দুই কাজই কঠিন হয়ে পড়েছে। দুর্গম এলাকা, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার কারণে উদ্ধার অভিযানেও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।
বিদেশি পর্যটকরাও এই দুর্যোগে আটকা পড়েছিলেন। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শত শত বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে আরও কয়েকশ বিদেশি নাগরিকের অবস্থান নিয়ে তখনো অনিশ্চয়তা ছিল।
অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রেও নিখোঁজ নাগরিকের সংখ্যা কিছুটা কমেছে। কয়েকজনের নিরাপদে থাকার খবর পাওয়ার পর দেশটির নিখোঁজ নাগরিকের সংখ্যা কমে আসে। তবে অনেক পরিবার এখনো স্বজনদের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছে।
এই বন্যা শুধু তাৎক্ষণিক প্রাণহানিই ঘটায়নি; নেপালের অবকাঠামোতেও বড় ধরনের ক্ষতি করেছে। রাস্তা, সেতু, বসতবাড়ি এবং বিভিন্ন স্থানীয় স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
বন্যার পর সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছে নিরাপদ পানি, খাবার, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা। দুর্যোগের পর এসব মৌলিক প্রয়োজন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী সময়ে রোগব্যাধি ও মানবিক সংকট আরও বাড়তে পারে।
এ ধরনের দুর্যোগে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা নিয়েও সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন দেখা যায়। কেউ নিরাপদে অন্যত্র আশ্রয় নেওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, আবার নতুন করে নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্যও যুক্ত হতে পারে। তাই প্রাথমিক নিখোঁজের সংখ্যা এবং চূড়ান্ত সংখ্যা এক নয়।এপি জানিয়েছে, কিছু বিদেশি পর্যটক পরে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হয়েছেন। ফলে নিখোঁজের তালিকায় পরিবর্তন এসেছে।
নেপালের জন্য এখন সবচেয়ে বড় কাজ হচ্ছে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাওয়া এবং নিখোঁজদের সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও অবকাঠামো পুনর্গঠনও দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অনেক পোস্টে মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে। তাই নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশের ক্ষেত্রে নেপালের সরকারি কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার সর্বশেষ আপডেট অনুসরণ করা জরুরি।