বিদেশি পর্যটক ফেরাতে ভ্রমণশিল্পের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক পর্যটন বাড়াতে বড় ভ্রমণ কোম্পানির প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, অর্থনীতিতে পর্যটনের গুরুত্ব বাড়ছে।
বিদেশি পর্যটক ফেরাতে ভ্রমণশিল্পের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক পর্যটন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভ্রমণশিল্পের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বুধবারের বৈঠকে বিমান, হোটেল, বিনোদন ও ক্রুজ ব্যবসার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বিদেশি পর্যটকদের যুক্তরাষ্ট্রে ফেরানো এবং পর্যটন খাতকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির একটি শক্তিশালী উৎস হিসেবে ব্যবহার করাই ছিল আলোচনার অন্যতম লক্ষ্য।
এ বছরের গ্রীষ্মে ফিফা বিশ্বকাপ যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন শিল্পকে বড় ধরনের সাময়িক সুবিধা দিয়েছে। বিশ্বকাপের কারণে আয়োজক শহরগুলোতে হোটেল, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও বিনোদন খাতে ব্যয় বেড়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, জুনে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ১২২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল।
তবে পর্যটন খাতের দীর্ঘমেয়াদি পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের জন্য ভিসা যাচাই, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অভিবাসন নীতির কঠোরতা যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্বের অনেক পর্যটক এখন যুক্তরাষ্ট্রের পরিবর্তে ইউরোপ বা এশিয়ার গন্তব্য বেছে নেওয়ার কথা বিবেচনা করছেন। ভ্রমণকারীরা শুধু ভিসার খরচ নয়, অপেক্ষার সময়, বিমানভাড়া, হোটেলের মূল্য এবং সীমান্তে প্রবেশের প্রক্রিয়াও বিবেচনা করেন।
ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ কঠোর করছে, অন্যদিকে পর্যটন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এই দুই নীতির মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করাই প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
ভ্রমণশিল্পের কর্মকর্তারা চাইছেন, বৈধ পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের জন্য প্রক্রিয়া সহজ ও পূর্বানুমানযোগ্য রাখা হোক। কারণ আন্তর্জাতিক পর্যটন শুধু বিমান ও হোটেল ব্যবসাকে নয়, স্থানীয় দোকান, রেস্তোরাঁ, বিনোদন কেন্দ্র এবং পরিবহন খাতকেও অর্থনৈতিক সুবিধা দেয়।
বিশ্বকাপের সাময়িক সাফল্যের পর প্রশাসনের লক্ষ্য এখন এই প্রবাহকে দীর্ঘস্থায়ী করা। যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলো—নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, মিয়ামি, অরল্যান্ডো, লাস ভেগাসসহ বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র আন্তর্জাতিক দর্শনার্থীদের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল।
তবে আন্তর্জাতিক পর্যটন বাড়াতে শুধু প্রচারণা যথেষ্ট নয়। পর্যটকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া, বিমানবন্দর অভিজ্ঞতা, নিরাপত্তা, পরিবহন ও থাকার খরচ—সবকিছুর সমন্বিত উন্নতি প্রয়োজন।
এই কারণে ট্রাম্পের ভ্রমণশিল্পের প্রধানদের সঙ্গে বৈঠককে শুধু একটি রাজনৈতিক বৈঠক হিসেবে দেখলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে পর্যটনের ভূমিকা বাড়ানোর একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ