মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের চাপেও যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন শিল্প ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে

জ্বালানি ব্যয়, আন্তর্জাতিক সংঘাত ও ভ্রমণ অনিশ্চয়তার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন কোম্পানিগুলো ব্যবসা ধরে রাখার চেষ্টা করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের চাপেও যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন শিল্প ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের চাপেও যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন শিল্প ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে


মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত জ্বালানি ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণের অনিশ্চয়তার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন খাত ব্যবসা ধরে রাখার চেষ্টা করছে। বিমান কোম্পানি, হোটেল, ক্রুজ প্রতিষ্ঠান এবং পর্যটন ব্যবসাগুলো দেশীয় ভ্রমণকারীদের শক্তিশালী চাহিদার ওপর নির্ভর করে আন্তর্জাতিক পর্যটনের দুর্বলতা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। 

রয়টার্সের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ব্যবসায়িক ও অবকাশকালীন ভ্রমণ এখনো ভ্রমণ কোম্পানিগুলোকে কিছুটা স্থিতিশীলতা দিচ্ছে। বিশ্বকাপের কারণে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণেও সাময়িক বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছিল।

কিন্তু আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও জটিল। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিমান পরিবহন খাতে জ্বালানি অন্যতম বড় ব্যয়। তেলের দাম বাড়লে বিমান পরিচালনার খরচও বাড়ে এবং তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত যাত্রীদের টিকিটের ওপর পড়ে।

ক্রুজ কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা যায়। বড় জাহাজ পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ জ্বালানি প্রয়োজন। ফলে তেলের মূল্য বাড়লে ক্রুজ ভ্রমণের ব্যয়ও বাড়তে পারে।

হোটেল ব্যবসাও আন্তর্জাতিক পর্যটকের ওপর নির্ভর করে। বিদেশি পর্যটক কমলে বড় শহর ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোর হোটেল, রেস্তোরাঁ ও বিনোদন ব্যবসায় চাপ তৈরি হয়।

তবে মার্কিন ভোক্তাদের দেশীয় ভ্রমণের আগ্রহ এখনো গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা দিচ্ছে। পরিবারভিত্তিক ভ্রমণ, ব্যবসায়িক সফর এবং অবকাশকালীন পর্যটন অনেক প্রতিষ্ঠানকে আয়ের ধারায় রাখতে সাহায্য করছে।

এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আন্তর্জাতিক পর্যটকদের যুক্তরাষ্ট্রে আসার আগ্রহ। ভিসা নীতি, সীমান্তে প্রবেশের নিয়ম এবং রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে বিদেশি পর্যটকরা বিকল্প গন্তব্য বেছে নিতে পারেন।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসন আন্তর্জাতিক পর্যটন বাড়ানোর জন্য ভ্রমণশিল্পের বড় কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কাজ করতে চাইছে। বিশ্বকাপের সাফল্য দেখিয়েছে, বড় আন্তর্জাতিক আয়োজন যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন খাতে ব্যাপক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি করতে পারে। 

আগামী মাসগুলোতে পর্যটন খাতের জন্য সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হবে—বিশ্বকাপের মতো সাময়িক বাড়তি চাহিদা শেষ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক পর্যটকদের কীভাবে ধরে রাখা যায়।

এ জন্য বিমানবন্দর, ভিসা প্রক্রিয়া, হোটেল, পরিবহন এবং পর্যটন আকর্ষণগুলোর সমন্বিত প্রচারণা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ, সহজে প্রবেশযোগ্য এবং আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে উপস্থাপন করতে হবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পর্যটন শিল্প পুরোপুরি সংকটে পড়েনি। বরং এটি একদিকে আন্তর্জাতিক চাহিদার চাপ, অন্যদিকে শক্তিশালী দেশীয় ভ্রমণ চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য খুঁজছে।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর