যুক্তরাষ্ট্রে প্রতারণার নতুন রেকর্ড, হাজারো মানুষ হারাচ্ছেন সঞ্চয় ও জীবনের নিরাপত্তা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতারণার ঘটনা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে প্রতারকরা আরও সহজে শিকার খুঁজছে।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতারণার নতুন রেকর্ড, হাজারো মানুষ হারাচ্ছেন সঞ্চয় ও জীবনের নিরাপত্তা

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতারণার নতুন রেকর্ড, হাজারো মানুষ হারাচ্ছেন সঞ্চয় ও জীবনের নিরাপত্তা


যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইন ও আর্থিক প্রতারণা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বিষয়টি এখন শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি একটি বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট হিসেবেও সামনে আসছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের নতুন অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে মার্কিন নাগরিকরা সরকারি হিসাবে অন্তত ১৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার প্রতারণায় হারানোর কথা জানিয়েছেন। প্রকৃত ক্ষতি এর চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতারণার সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো—অনেক ভুক্তভোগী ঘটনার পর কর্তৃপক্ষকে জানান না। কেউ লজ্জার কারণে বিষয়টি গোপন রাখেন, কেউ পরিবারের কাছেও বলতে চান না। আবার কেউ মনে করেন টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এই কারণে সরকারি পরিসংখ্যান বাস্তব ক্ষতির পুরো চিত্র তুলে ধরে না।

বর্তমানে প্রতারকরা শুধু ফোনকল বা সাধারণ ই-মেইলের ওপর নির্ভর করছে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তারা মানুষের কণ্ঠস্বর নকল, ভুয়া ছবি তৈরি এবং বিশ্বাসযোগ্য বার্তা তৈরি করতে পারছে। ফলে আগে যে প্রতারণা চিনে ফেলা সহজ ছিল, এখন সেটি অনেক বেশি বাস্তব মনে হতে পারে।

ক্রিপ্টোকারেন্সিও প্রতারকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। দ্রুত অর্থ স্থানান্তর এবং বিভিন্ন দেশের মধ্যে অর্থ সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকায় তদন্তকারীদের জন্য অর্থের পথ অনুসরণ করা কঠিন হতে পারে।

এ ধরনের প্রতারণায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বয়স্ক মানুষও রয়েছেন। অনেক সময় প্রতারকরা নিজেদের ব্যাংক কর্মকর্তা, সরকারি কর্মচারী, পুলিশ, চিকিৎসক অথবা পরিচিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দেয়।

কখনো তারা দাবি করে, ভুক্তভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সমস্যা হয়েছে। কখনো বলে, পরিবারের কোনো সদস্য বিপদে আছে। আবার কখনো বিনিয়োগের মাধ্যমে দ্রুত বড় লাভের প্রলোভন দেখানো হয়।

প্রতারণার মনস্তাত্ত্বিক দিকটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতারকরা সাধারণত মানুষকে ভয়, তাড়াহুড়া অথবা লোভের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। “এখনই টাকা পাঠান”, “আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে” কিংবা “আপনার সন্তান বিপদে”—এ ধরনের কথা বলে চিন্তা করার সময় কমিয়ে দেওয়া হয়।

এ কারণে বিশেষজ্ঞরা বলেন, অচেনা কেউ ফোন করে জরুরি অর্থ পাঠাতে বললে সঙ্গে সঙ্গে সিদ্ধান্ত না নেওয়াই নিরাপদ।

আরেকটি বড় সমস্যা হলো—প্রতারণার শিকার হওয়ার পর মানুষ কখনো কখনো দ্বিতীয়বারও প্রতারিত হন। কেউ টাকা হারানোর পর “টাকা উদ্ধার করে দেওয়ার” নামে নতুন প্রতারকের ফাঁদে পড়েন।

এপি জানিয়েছে, অনেক ভুক্তভোগী প্রতারণার পর আর্থিকভাবে এতটাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন যে বাড়ি হারানোর মতো পরিস্থিতিতেও পড়েছেন। 

এই পরিস্থিতিতে ব্যাংক, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতারণা মোকাবিলায় বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগ থাকলেও একটি সমন্বিত জাতীয় ব্যবস্থা নিয়ে এখনও বিতর্ক রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও প্রতারণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সম্পর্ক তৈরি, বিনিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া অথবা চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলা হচ্ছে।তাই এখন শুধু বয়স্ক মানুষ নয়—যে কোনো বয়সের মানুষকে ডিজিটাল প্রতারণা সম্পর্কে সচেতন হতে হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, অচেনা ব্যক্তিকে ব্যক্তিগত তথ্য, ব্যাংক তথ্য, পাসওয়ার্ড বা যাচাই কোড দেওয়া যাবে না। কোনো প্রতিষ্ঠান ফোন করে টাকা পাঠাতে বললে নিজে থেকে সেই প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগ করে সত্যতা যাচাই করা উচিত।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর