যুক্তরাষ্ট্রে জুলাইয়ে আইসিইর প্রায় ৫০ হাজার গ্রেপ্তার, নতুন রেকর্ড

ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে জুলাইয়ে আইসিই প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে, যা এক মাসে সর্বোচ্চ সংখ্যা।

যুক্তরাষ্ট্রে জুলাইয়ে আইসিইর প্রায় ৫০ হাজার গ্রেপ্তার, নতুন রেকর্ড

যুক্তরাষ্ট্রে জুলাইয়ে আইসিইর প্রায় ৫০ হাজার গ্রেপ্তার, নতুন রেকর্ড


যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন প্রয়োগ বা অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযান আরও জোরদার হয়েছে। মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই জুলাই মাসে প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে বলে সরকারি তথ্য বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।

এপি জানিয়েছে, জুলাইয়ে আইসিই ৪৯ হাজার ৫৭১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। জুনে এই সংখ্যা ছিল ৪৩ হাজার ২১। অর্থাৎ মাত্র এক মাসে গ্রেপ্তারের সংখ্যা প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। 

এই সংখ্যা ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে এক মাসে সর্বোচ্চ গ্রেপ্তারের রেকর্ড। অভিবাসন নীতিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্কও তাই আরও তীব্র হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে অভিবাসন আইন প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হচ্ছে। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, যারা আইন ভেঙেছে বা যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

তবে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা বলছেন, অভিযানের প্রভাব শুধু অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। এপি-র বিশ্লেষণে জুলাইয়ের গ্রেপ্তারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে উঠে এসেছে।

অভিবাসন অভিযান বাড়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী লাখো অভিবাসী পরিবার উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। অনেক পরিবারের সদস্যদের বৈধ কাগজপত্র থাকলেও তাদের পরিচয়, কাজের অনুমতি বা অন্য কোনো অভিবাসন-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা থাকে।

অভিবাসন অভিযান শুধু গ্রেপ্তারেই সীমাবদ্ধ নয়। গ্রেপ্তারের পর আটক, আদালত, মুক্তির আবেদন এবং শেষ পর্যন্ত বহিষ্কারের প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে।

এর ফলে পরিবার বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। কোনো পরিবারের একজন সদস্য আটক হলে তার ওপর নির্ভরশীল শিশু, বৃদ্ধ বা পরিবারের অন্য সদস্যরা আর্থিক ও মানসিক সমস্যায় পড়তে পারেন।

নিউইয়র্কে অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার ৭.২৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। এই অর্থ প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন একাকী বা অভিভাবকবিহীন অভিবাসী শিশুর আইনি সেবায় ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

অভিবাসন ইস্যুটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রিপাবলিকানরা সাধারণত সীমান্ত নিরাপত্তা এবং আইন প্রয়োগকে গুরুত্ব দেন। ডেমোক্র্যাট ও অভিবাসন অধিকার সংগঠনগুলো মানবাধিকার, আইনি প্রক্রিয়া এবং পরিবারের সুরক্ষার ওপর বেশি গুরুত্ব দেয়।

এই দ্বন্দ্ব আগামী নির্বাচনের সময় আরও বড় রাজনৈতিক ইস্যু হতে পারে। অভিবাসন অভিযানের আরেকটি দিক হলো শ্রমবাজার। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি, নির্মাণ, রেস্টুরেন্ট, পরিচর্যা এবং অন্যান্য খাতে অভিবাসী শ্রমিকদের বড় ভূমিকা রয়েছে। অভিযান বাড়লে কিছু শিল্পে শ্রমিক সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

অন্যদিকে কঠোর প্রয়োগ এর সমর্থকরা মনে করেন, আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত এবং অবৈধভাবে অবস্থানকারী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

তাই এই ইস্যুতে তথ্য যাচাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো ব্যক্তিকে শুধু অভিবাসী পরিচয়ের কারণে অপরাধী বলা সঠিক নয়। একইভাবে আইসিইর কোনো অভিযানকে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে ব্যাখ্যা না করে সরকারি তথ্য, আদালতের নথি এবং নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্র দেখা প্রয়োজন।

সিএসবি নিউজ-এর আরও খবর