যুক্তরাষ্ট্রে মেইল ভোটের নতুন নিয়ম নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আইনি লড়াই
মেইল ভোটের নতুন নিয়ম নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আদালতে লড়াই, নিম্ন আদালতের নিষেধাজ্ঞা বাতিলে আপিল করেছে মার্কিন সরকার।
যুক্তরাষ্ট্রে মেইল ভোটের নতুন নিয়ম নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আইনি লড়াই
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ডাকযোগে ভোট বা মেইল-ইন ভোটের নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করতে আদালতে আইনি লড়াই জোরদার করেছে। প্রশাসন বোস্টনভিত্তিক ফার্স্ট ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলসে আবেদন করে নিম্ন আদালতের দেওয়া সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, মেইল ব্যালট ব্যবস্থায় আরও কঠোর যাচাইয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। রাজ্যগুলোকে মেইল ব্যালট প্রাপকদের তালিকা দিতে হবে এবং ব্যালটে নির্দিষ্ট স্বতন্ত্র বারকোড রাখার নিয়ম করা হয়েছে। নির্ধারিত শর্ত পূরণ না হলে কিছু ব্যালট ডাকযোগে সরবরাহ না করার সুযোগও রাখা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, নতুন নিয়ম ডাক পরিষেবার অবকাঠামো আধুনিক করবে এবং নির্বাচনী ব্যবস্থায় যাচাই আরও শক্তিশালী করবে। তবে ডেমোক্র্যাট-নেতৃত্বাধীন কয়েকটি রাজ্য ও ভোটাধিকার সংগঠন বলছে, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষমতা মূলত রাজ্যগুলোর হাতে এবং নতুন নিয়ম সংবিধানবিরোধী হতে পারে।
ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল বিচারক ইন্দিরা টালওয়ানি গত সপ্তাহে নতুন নিয়ম বাস্তবায়নে ১৪ দিনের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। প্রশাসন সেই আদেশের বিরুদ্ধেই আপিল করেছে।
এর আগে ২৪ আগস্ট মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের মেইল ভোট সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশের ওপর থাকা একটি নিম্ন আদালতের বাধা তুলে নেওয়ার সুযোগ দেয়। তবে আদালত তখন নিয়মটির চূড়ান্ত সাংবিধানিক বৈধতা নির্ধারণ করেনি।
এদিকে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মার্কিন ভোটার বিভিন্নভাবে ডাকযোগে ভোট ব্যবহার করেন বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে নিয়মের পরিবর্তন ভোটার ও নির্বাচন কর্মকর্তাদের ওপর বাস্তব প্রভাব ফেলতে পারে।
আজ নতুন করে ইউএস পোস্টাল সার্ভিসের অভ্যন্তরীণ প্রযুক্তি ব্যবস্থা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন একজন হুইসেলব্লোয়ার। তাঁর দাবি, দ্রুত তৈরি করা নতুন ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকলে বিপুলসংখ্যক মেইল ব্যালট প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।