পাকিস্তানে আসিম মুনিরের ক্ষমতা নিয়ে বাড়ছে বিরোধিতা, জোরালো হচ্ছে নতুন চ্যালেঞ্জ
পাকিস্তানে আসিম মুনিরের ক্ষমতা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন, সেনাবাহিনীর প্রভাবের বিরোধিতাও জোরালো হচ্ছে।
পাকিস্তানে আসিম মুনিরের ক্ষমতা নিয়ে বাড়ছে বিরোধিতা, জোরালো হচ্ছে নতুন চ্যালেঞ্জ
সাম্প্রতিক সময়ে আসিম মুনির পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামোয় আরও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে উঠেছেন। কার্নেগি এনডাওমেন্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে তিনি সামরিক বাহিনীর প্রভাবকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক করেছেন এবং পাকিস্তানের রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে সেনাবাহিনীর প্রভাব বাড়িয়েছেন।
তবে একই সময়ে তার নেতৃত্ব ও সেনাবাহিনীর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি এবং বিভিন্ন মহলে সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের সঙ্গে সামরিক নেতৃত্বের দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরোধ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইমরান খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জুলফিকার বুখারি বলেছেন, ইমরান মুক্তি পেলে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যাবেন না। এটি পিটিআইয়ের আগের কঠোর অবস্থানের তুলনায় অপেক্ষাকৃত সমঝোতামূলক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে দলটি ২৭ সেপ্টেম্বর দেশব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।
আসিম মুনির এখন শুধু পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, আঞ্চলিক কূটনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। সম্প্রতি তিনি ইরান সফরে গিয়ে চলমান আঞ্চলিক সংঘাত কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও তার কথা হয়েছে।
ফলে আসিম মুনিরকে ঘিরে পরিস্থিতি জটিল। একদিকে তিনি পাকিস্তানের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন, অন্যদিকে দেশের ভেতরে সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন ও বিরোধিতা অব্যাহত রয়েছে।
এখন পর্যন্ত প্রকাশ্য তথ্য থেকে সেনাবাহিনীর ভেতরে আসিম মুনিরের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিদ্রোহ বা সংগঠিত অভ্যুত্থানের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং রাজনৈতিক বিরোধিতা, জনমত, ইমরান খান ইস্যু এবং সামরিক বাহিনীর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে বিতর্কই তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে রয়েছে।