সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
বিরোধীরা এখন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে, অতীতে আমরা বসার জায়গাও পাইনি: মীর শাহে আলমআফগান মেয়েদের শিক্ষার অধিকার ফেরাতে তালেবানের ওপর চাপ বাড়াল ইউরোপীয় ইউনিয়নভেনেজুয়েলায় অবাধ নির্বাচনের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, ভোটের তারিখ ঘোষণার চাপ বাড়ছেপশ্চিম তীরে গুলির হামলার পর নেতানিয়াহুর নির্দেশে লিকুদ দলের সব রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিলতল্লাশির পর নিরাপত্তাহীনতায় ওয়াশিংটনের বাসা ছাড়ছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের উত্তাপ, পাঁচ মাসের সর্বোচ্চে তেলের দাম; চাপে বিশ্ব অর্থনীতি

সৌদি আরবে হামলা, আমিরাতে তেল ছড়িয়ে পড়া এবং লিবিয়ায় উৎপাদন কমায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ছে, উদ্বেগ বাড়ছে বাংলাদেশের আমদানি ব্যয় নিয়েও।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের উত্তাপ, পাঁচ মাসের সর্বোচ্চে তেলের দাম; চাপে বিশ্ব অর্থনীতি
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের উত্তাপ, পাঁচ মাসের সর্বোচ্চে তেলের দাম; চাপে বিশ্ব অর্থনীতি

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম পাঁচ মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সৌদি আরবে হুতি গোষ্ঠীর হামলা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপকূলে জাহাজ থেকে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা এবং লিবিয়ায় তেল উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।

শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যতম প্রধান মানদণ্ড ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম একপর্যায়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৫ দশমিক ১৬ ডলারে পৌঁছায়। ৪ মে-র পর এটিই ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়। পরবর্তী লেনদেনে দাম কিছুটা ওঠানামা করলেও ব্রেন্টের দাম প্রায় ১১৪ দশমিক ৯৯ ডলারে ছিল। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০১ দশমিক ২৭ ডলারে পৌঁছায়। ব্রেন্টের দাম টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো বাড়ার পথে রয়েছে, যা বাজারে সরবরাহসংক্রান্ত উদ্বেগের গভীরতা তুলে ধরছে।

তেলের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি। ইয়েমেনভিত্তিক এই গোষ্ঠীর সঙ্গে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের সংঘর্ষ এবং গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আন্তর্জাতিক বাজারকে অস্থির করে তুলেছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরবে উৎপাদন বা পরিবহনব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো তাদের পূর্বাঞ্চলীয় ধাহরান শহরের সদর দপ্তর থেকে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। এই পদক্ষেপ বাজারে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। তবে নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ এবং বাস্তবে তেল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া এক বিষয় নয়। সংঘাতের কারণে সরবরাহে কতটা প্রভাব পড়ছে, সেটিই এখন বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উম্ম আল কুয়াইন এলাকার উপকূলে একটি তেলবাহী জাহাজকে ঘিরে তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির কথা জানালেও তেল ছড়িয়ে পড়ার সুনির্দিষ্ট কারণ বা সংশ্লিষ্ট জাহাজের পরিচয় নিশ্চিত করেনি। এর আগে ওই এলাকার কাছাকাছি একটি জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্রজাতীয় বস্তু আঘাত হানার খবর দিয়েছিলেন সামুদ্রিক পরিবহনসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। তবে এই ঘটনার সঙ্গে তেল ছড়িয়ে পড়ার সরাসরি সম্পর্ক নিশ্চিত করা হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথগুলোতে নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়লে শুধু তেল উৎপাদন নয়, আন্তর্জাতিক পরিবহনব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। হরমুজ প্রণালি এবং লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মানদেব বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব পথে জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হলে তেল পরিবহনে বিলম্ব, জাহাজের বীমা ব্যয় বৃদ্ধি এবং পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও বাজারে ঝুঁকির কারণে তেলের দাম বাড়তে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। লিবিয়ায় হামাদা ও তাহারা তেলক্ষেত্র থেকে জাওইয়া বন্দরের দিকে যাওয়া একটি পাইপলাইনের ভাল্‌ভ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুটি তেলক্ষেত্রের উৎপাদন কমেছে বলে দেশটির জাতীয় তেল করপোরেশনের প্রধান জানিয়েছেন। একাধিক অঞ্চলে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

তেলের দাম দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকলে এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে পড়তে পারে। জ্বালানির ব্যয় বাড়লে বিমান পরিবহন, নৌপরিবহন, পণ্য সরবরাহ এবং শিল্পকারখানার পরিচালন ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। ব্যবসায়ীরা সেই বাড়তি ব্যয়ের একটি অংশ পণ্যের দামের সঙ্গে যুক্ত করলে সাধারণ ভোক্তাদের জীবনযাত্রার খরচ বাড়ার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে যেসব দেশ আমদানির মাধ্যমে তাদের জ্বালানির চাহিদার বড় অংশ পূরণ করে, তাদের অর্থনীতিতে চাপ আরও বেশি হতে পারে।

বাংলাদেশের জন্যও আন্তর্জাতিক তেলের বাজারের এই পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববাজারে তেলের দাম উঁচু অবস্থানে থাকলে জ্বালানি আমদানিতে বেশি অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে। এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি পরিবহন ও পণ্য উৎপাদনের খরচ বাড়ার ঝুঁকি থাকে। জ্বালানির ব্যয় দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে কৃষিপণ্য পরিবহন, শিল্প উৎপাদন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পরোক্ষ প্রভাব পড়তে পারে।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়লেই বাংলাদেশে পেট্রোল, অকটেন বা ডিজেলের দাম সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। দেশের জ্বালানির খুচরা মূল্য নির্ধারণে আমদানি ব্যয়, সরবরাহব্যবস্থা, মজুত, সরকারি নীতি এবং অন্যান্য খরচ বিবেচনায় নেওয়া হয়। এ বিষয়ে নতুন সরকারি ঘোষণা ছাড়া দেশের বাজারে মূল্যবৃদ্ধি নিশ্চিত বলে প্রচার করা বিভ্রান্তিকর হবে।

বিশ্ববাজারে তেলের দাম আগামী দিনে কোন দিকে যাবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কতটা ছড়িয়ে পড়ে, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকে কি না এবং উৎপাদনকারী দেশগুলো সরবরাহ ধরে রাখতে পারে কি না এসব বিষয়ের ওপর। সংঘাত কমে গেলে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে দাম বৃদ্ধির চাপ প্রশমিত হতে পারে। বিপরীতে তেল উৎপাদন বা পরিবহনে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আপাতত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বজায় থাকায় পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন ব্যবসায়ী ও বিশ্লেষকেরা।

ট্যাগ: তেলেরদামমধ্যপ্রাচ্যজ্বালানিবাজারসৌদিআরবসংযুক্তআরবআমিরাতলিবিয়া

প্রতিবেদক

Staff Reporter

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।