সৌদি আরবে সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি আটক, তৎপর হচ্ছে ঢাকা
সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ বাংলাদেশি নাগরিক আটক রয়েছেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ। তাঁদের মামলা, আইনি সহায়তা ও দেশে ফেরানোর বিষয়টি প্রবাসী পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ২৩ অক্টোবর ঢাকায় সাংবাদিকদের জানান, সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ বাংলাদেশি রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলার বিষয় রয়েছে। তবে কতজনের সাজা হয়েছে, কতজন বিচারাধীন এবং কতজনের মামলা কী পর্যায়ে রয়েছে—এমন পূর্ণাঙ্গ বিভাজন সরকার প্রকাশ করেনি।
বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশের পর। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ওই দুই নাগরিকের মামলার রায়ের অনুলিপি ও বিস্তারিত তথ্য সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে চাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
সৌদি আরবের জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট ৩০ সেপ্টেম্বর যে বন্দিতালিকা পেয়েছিল, তাতে পশ্চিম সৌদি আরবের আওতায় ২ হাজার ৪৬১ জন বাংলাদেশির নাম ছিল। তালিকায় কয়েকজনের সাজাসংক্রান্ত তথ্য অসম্পূর্ণ ছিল। তবে এই তালিকা পুরো সৌদি আরবের নয়; তাই এর সঙ্গে দেশজুড়ে প্রায় ৭ হাজার ৫০০ বন্দির হিসাবকে সরাসরি এক করে দেখা যাবে না।
সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার। সেখানে কর্মরত বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। কোনো প্রবাসী গ্রেপ্তার হলে তাঁর পরিবারের জন্য অবস্থান, মামলার অগ্রগতি, আইনি সহায়তা এবং কনস্যুলার যোগাযোগের তথ্য পাওয়া অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ সরকার জানিয়েছে, বিদেশে আটক নাগরিকদের মামলার তথ্য সংগ্রহ, প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা এবং উপযুক্ত ক্ষেত্রে সাজা কমানো বা ক্ষমার আবেদন করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তবে প্রত্যেক মামলার ফল নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দেশের বিচারিক প্রক্রিয়া ও মামলার তথ্যের ওপর।
এখন গুরুত্বপূর্ণ হলো সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ বন্দিতালিকা ও সংশ্লিষ্ট মামলার রায় পাওয়া, যাতে পরিবারগুলো নির্ভরযোগ্য তথ্য পায় এবং আটক বাংলাদেশিদের আইনি অবস্থার বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা তৈরি হয়।





