সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
বিরোধীরা এখন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে, অতীতে আমরা বসার জায়গাও পাইনি: মীর শাহে আলমআফগান মেয়েদের শিক্ষার অধিকার ফেরাতে তালেবানের ওপর চাপ বাড়াল ইউরোপীয় ইউনিয়নভেনেজুয়েলায় অবাধ নির্বাচনের দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, ভোটের তারিখ ঘোষণার চাপ বাড়ছেপশ্চিম তীরে গুলির হামলার পর নেতানিয়াহুর নির্দেশে লিকুদ দলের সব রাজনৈতিক কর্মসূচি বাতিলতল্লাশির পর নিরাপত্তাহীনতায় ওয়াশিংটনের বাসা ছাড়ছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর

জাপানের ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আসছে বাংলাদেশে, খুলতে পারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন জাপান সফর ঘিরে পাঁচ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ৬৩৫ কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের সম্ভাবনা সামনে এসেছে। গাড়ি উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের কথা জানানো হলেও অঙ্কটি এখনো দুই দেশের সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

জাপানের ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আসছে বাংলাদেশে, খুলতে পারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ
জাপানের ৬.৩৫ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ আসছে বাংলাদেশে, খুলতে পারে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ

বাংলাদেশে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ৬৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের উদ্যোগ নিতে পারে জাপান। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ কয়েক দশক হাজার কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন টোকিও সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার সম্ভাবনার মধ্যে এই বিনিয়োগ পরিকল্পনার খবর সামনে এসেছে।

জাপানের সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার প্রতিবেদনের বরাতে ২২ অক্টোবর রয়টার্স এবং ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বা ৬৩৫ কোটি ডলারের বিনিয়োগের বিষয়টি দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতিতে উল্লেখ থাকতে পারে। তবে রয়টার্স জানিয়েছে, তারা তাৎক্ষণিকভাবে এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি বাংলাদেশের দ্য ডেইলি স্টারও জানিয়েছে, বিনিয়োগের অঙ্কটি তারা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে তারেক রহমান ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপান সফর করবেন। ২৭ অক্টোবর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। সফরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং কৌশলগত সম্পর্ক জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।

সম্ভাব্য বিনিয়োগের প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে গাড়ি উৎপাদন, অন্যান্য শিল্পকারখানা এবং জ্বালানি অবকাঠামো নির্মাণ। বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগেও জাপানি কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। এই অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার সঙ্গে জাপানি বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান সুমিতোমো করপোরেশনসহ একাধিক পক্ষ যুক্ত রয়েছে।

বিনিয়োগ পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শিল্প খাতে নতুন কারখানা স্থাপন, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে গাড়ি ও যন্ত্রাংশ উৎপাদন, শিল্পপ্রযুক্তি এবং জ্বালানি অবকাঠামোর মতো খাতে বিনিয়োগ বাড়লে দেশের উৎপাদনভিত্তিক অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনার সম্ভাবনা থাকবে। তবে কতটি কারখানা তৈরি হবে, কত মানুষের কর্মসংস্থান হবে কিংবা কোন কোন প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করবে—এসব বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

বাংলাদেশ ও জাপানের অর্থনৈতিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। অবকাঠামো উন্নয়ন, যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে জাপান বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। এবার সম্ভাব্য বেসরকারি বিনিয়োগের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সরকারি উন্নয়ন সহযোগিতার পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণও বাড়তে পারে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম ২০ অক্টোবর সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে আলোচনা হবে। কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসামরিক বিমান চলাচল, বাণিজ্য এবং পরিবেশ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে। সফরে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার প্রত্যাশাও রয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য এই সম্ভাব্য বিনিয়োগের গুরুত্ব শুধু অর্থের অঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়। নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে দক্ষ কর্মী তৈরির সুযোগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, স্থানীয় সরবরাহব্যবস্থার সম্প্রসারণ এবং রপ্তানিমুখী উৎপাদন বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে জাপানের বাজারে বাংলাদেশের পণ্যের প্রবেশাধিকার ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ নিয়েও সফরে আলোচনা হতে পারে।

তবে বিনিয়োগের ঘোষণা এবং বাস্তবে অর্থ বিনিয়োগ এক বিষয় নয়। প্রস্তাবিত অর্থের কত অংশ নতুন প্রকল্পে যাবে, কোন খাতে কত অর্থ বরাদ্দ হবে, বিনিয়োগ কখন শুরু হবে এবং কীভাবে তা বাস্তবায়ন করা হবে—এসব বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ, জমি, বন্দর ও যোগাযোগব্যবস্থা এবং ব্যবসায়িক পরিবেশও বড় বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

এখন বাংলাদেশের দৃষ্টি ২৭ অক্টোবরের বৈঠক এবং সফর শেষে প্রকাশিতব্য যৌথ বিবৃতির দিকে। সেখানে বিনিয়োগের অঙ্ক, বাস্তবায়নের সময়সীমা ও সংশ্লিষ্ট খাত সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে পরিকল্পনাটির প্রকৃত সম্ভাবনা আরও ভালোভাবে বোঝা যাবে।

ট্যাগ: বাংলাদেশজাপানবিনিয়োগতারেকরহমানকর্মসংস্থানঅর্থনৈতিকউন্নয়ন

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।