সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
স্কুলে যাওয়ার পথে শিক্ষার্থীদের থামাল অভিবাসন কর্মকর্তারা, নর্থ বার্গেনে ক্ষোভনিউইয়র্কে গরবার তালে মেয়র মামদানি, ভারতীয়দের উৎসবে মাতলেন নাচে!হরমুজ সংকটেও ইরাকের তেল রপ্তানি দৈনিক ৩৪ লাখ ব্যারেল ছাড়াল, বিকল্প রুটে বাড়ছে সরবরাহশাহজালাল বিমানবন্দরের স্টোর বিল্ডিংয়ে আগুন, কয়েক মিনিটেই নিয়ন্ত্রণেযুক্তরাষ্ট্রের ৭ কোটি শিশুকে স্পেসএক্সের শেয়ার উপহারের ঘোষণা ইলন মাস্কের, মূল্য প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার

নিউইয়র্কে গরবার তালে মেয়র মামদানি, ভারতীয়দের উৎসবে মাতলেন নাচে!

নিউইয়র্কে নবরাত্রি উদ্‌যাপনে গরবা নৃত্যে অংশ নিলেন মেয়র জোহরান মামদানি, হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসবে তাঁর অংশগ্রহণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা।

নিউইয়র্কে গরবার তালে মেয়র মামদানি, ভারতীয়দের উৎসবে মাতলেন নাচে!
নিউইয়র্কে গরবার তালে মেয়র মামদানি, ভারতীয়দের উৎসবে মাতলেন নাচে!

মামদানির এই অংশগ্রহণের তাৎপর্য শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নাচের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিউইয়র্কের মতো বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক শহরে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের উৎসবে জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মানুষের বসবাস রয়েছে এমন এলাকাগুলোতে তাঁদের ভাষা, ধর্মীয় উৎসব, শিল্পকলা ও ঐতিহ্য নগরীর সাংস্কৃতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গরবা মূলত ভারতের গুজরাট অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী লোকনৃত্য। নবরাত্রি উৎসবের সঙ্গে এই নাচের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। নবরাত্রি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব, যা দেবী দুর্গা ও নারীত্বের শক্তির আরাধনার সঙ্গে সম্পর্কিত। উৎসব চলাকালে বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় আচার, সংগীত, নৃত্য এবং সামাজিক মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। গরবা সেই উদ্‌যাপনের অন্যতম পরিচিত অনুষঙ্গ।

এই নৃত্যে সাধারণত অংশগ্রহণকারীরা বৃত্তাকারে ঘুরে ঘুরে ছন্দময় পদক্ষেপে নাচেন। হাততালি, সংগীত এবং ঐতিহ্যবাহী পোশাক এর পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। অনেক আয়োজনে নৃত্যশিল্পীরা বৃত্তের কেন্দ্রে স্থাপিত প্রদীপসহ মাটির পাত্র অথবা দেবীর প্রতীককে ঘিরে নাচেন। নাচের গতি ধীরে শুরু হয়ে সংগীতের তালে ক্রমে দ্রুত হতে পারে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে অনুশীলন, অংশগ্রহণ ও সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে এই ঐতিহ্য টিকে রয়েছে।

গরবার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিষয়টিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো ২০২৩ সালে গুজরাটের গরবাকে মানবজাতির অপরিমেয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বমূলক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এই স্বীকৃতি নৃত্যটিকে কেবল বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং একটি জীবন্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণ ও পরিচিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে। এর সঙ্গে যুক্ত সংগীতশিল্পী, নৃত্যশিল্পী, কারুশিল্পী, আয়োজক এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের অবদানও এই ঐতিহ্যের অংশ।
তবে ইউনেসকোর স্বীকৃতি নিয়ে একটি বিষয় স্পষ্ট করা প্রয়োজন। স্বীকৃতিটি গরবা নৃত্যের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য, নিউইয়র্কের কোনো নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান বা আয়োজনের জন্য নয়। ফলে নিউইয়র্কে আয়োজিত এই উৎসবকে ইউনেসকো স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বর্ণনা করা গেলেও, অনুষ্ঠানটি নিজেই ইউনেসকোর স্বীকৃতি পেয়েছে—এমন দাবি করা সঠিক হবে না।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামদানি উৎসবে অংশ নিয়ে গরবার তালে নাচেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে তাঁকে অন্যান্য অংশগ্রহণকারীর সঙ্গে পদক্ষেপ মেলানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়। তাঁর এই অংশগ্রহণ নিয়ে অনলাইনে নানা প্রতিক্রিয়াও এসেছে। কেউ তাঁর উপস্থিতিকে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান হিসেবে দেখেছেন, আবার কেউ উৎসবের পরিবেশে একজন জনপ্রতিনিধির স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের প্রশংসা করেছেন। তবে এসব প্রতিক্রিয়াকে সমগ্র নিউইয়র্কবাসীর মতামত হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।

এই অনুষ্ঠানের সঙ্গে মামদানির সাম্প্রতিক উৎসববার্তারও যোগ রয়েছে। ১৪ অক্টোবর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হিন্দু সম্প্রদায়ের নবরাত্রি উদ্‌যাপন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানান। তাঁর বার্তায় গরবা, সিঁদুর খেলা, বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে টিকা গ্রহণ এবং দক্ষিণ ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রচলিত গোলু সাজানোর মতো রীতির উল্লেখ ছিল। তিনি দুর্গাপূজা, দশাইন, দশেরা ও নবরাত্রি উদ্‌যাপনকারী পরিবারগুলোর জন্য শুভকামনা জানিয়ে এই সময়কে আত্মপর্যালোচনা ও নবায়নের উপলক্ষ হিসেবে তুলে ধরেন।
এই বার্তায় বিভিন্ন অঞ্চলের উৎসব ও রীতির উল্লেখ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভারতীয় উপমহাদেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য একরকম নয়। একই সময়ে পালিত হলেও নবরাত্রি, দুর্গাপূজা ও দশেরার আচার-অনুষ্ঠান অঞ্চল, সম্প্রদায় ও পারিবারিক রীতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। গরবা গুজরাটের সঙ্গে বিশেষভাবে সম্পর্কিত হলেও ভারতের বাইরেও প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে এর জনপ্রিয়তা রয়েছে। নিউইয়র্কের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন সেই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করে।

নিউইয়র্কে বসবাসকারী দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের জন্য এ ধরনের আয়োজন সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখারও একটি মাধ্যম। প্রবাসে জন্ম নেওয়া বা বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরেরা পারিবারিক উৎসব, ঐতিহ্যবাহী নাচ, সংগীত এবং পোশাকের মাধ্যমে নিজেদের পূর্বপুরুষের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারে। একই সঙ্গে অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হলে পরিচিতির পরিধি বাড়ে এবং ভিন্ন সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার আগ্রহ তৈরি হয়।

মেয়র হিসেবে মামদানির এমন উপস্থিতি তাঁর জনসম্পৃক্ততার ধরন সম্পর্কেও আলোচনার সুযোগ তৈরি করেছে। নিউইয়র্কের সরকারি মেয়র কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি নগরীর ১১২তম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার নিম্নকক্ষে অ্যাস্টোরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।

নগরীর মেয়রের কাজের মধ্যে নাগরিক পরিষেবা, আবাসন, জননিরাপত্তা, পরিবহন, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক সুযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া এসব প্রশাসনিক দায়িত্বের বিকল্প নয়। তবে নগরীর বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং তাদের ঐতিহ্যকে সম্মান জানানোর ক্ষেত্রে এ ধরনের উপস্থিতি সহায়ক হতে পারে। কোনো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করে তার পাশাপাশি নাগরিকদের সমস্যা সমাধানে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নিচ্ছে, তার ওপরও।

উডসাইড এলাকার প্রসঙ্গেও সতর্ক থাকা দরকার। দেওয়া তথ্যে উডসাইড, নিউইয়র্কের ঠিকানা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু অনুসন্ধানে পাওয়া প্রতিবেদনগুলো থেকে অনুষ্ঠানস্থলের নির্দিষ্ট ঠিকানা নিশ্চিত করা যায়নি। তাই অনুষ্ঠানটি ঠিক ওই ঠিকানায় হয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে প্রকাশ করা সমীচীন হবে না। ঘটনাটির অবস্থান সম্পর্কে আরও নির্দিষ্ট তথ্য পেতে আয়োজকদের ঘোষণা, মূল ভিডিওর বিবরণ অথবা মেয়রের কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।


ট্যাগ: জোহরান মামদানিনিউইয়র্কগরবা নৃত্যনবরাত্রিভারতীয় সম্প্রদায়সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যইউনেসকোআন্তর্জাতিক সংবাদধর্মীয় সম্প্রীতিপ্রবাসী ভারতীয়

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।