হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করল ইরান
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তেহরানে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সফরের মধ্যেই আঞ্চলিক উত্তেজনা ও কূটনৈতিক সমাধান নিয়ে আলোচনা সামনে এসেছে।
হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনা ও নিরাপত্তাহীনতার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, তেহরানে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সফরকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত নিয়ে কূটনৈতিক আলোচনা নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
আরাগচি বলেছেন, হরমুজ প্রণালির অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী। তিনি আঞ্চলিক সমস্যাগুলো কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করার বিষয়টি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য; এটি কোনো স্বাধীন তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ১৯ অক্টোবর তেহরানে পৌঁছান। সফরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং উত্তেজনা কমানোর সম্ভাবনা নিয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার কথা রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রভাব বাড়তে থাকায় রাশিয়ার কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়েও বিভিন্ন পক্ষের আগ্রহ রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সমুদ্রপথ। পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই পথ দিয়ে যুদ্ধের আগের সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হতো। ফলে এখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং তেলের দামে প্রভাব পড়তে পারে।
চলমান সংঘাতের কারণে প্রণালিটিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। জাহাজে হামলা, চলাচলে বাধা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি ব্যয় ও পরিবহন খরচও বাড়তে পারে।
এর আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এমন একটি প্রস্তাবের কথা জানিয়েছে, যার শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব বলে তেহরান দাবি করেছে। তবে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের জন্য দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ইরান নিষেধাজ্ঞা ও মার্কিন অবরোধের বিষয়গুলোকে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে।
হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যে স্পষ্ট মতবিরোধ রয়েছে। তেহরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ও চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং সংঘাতের অন্যান্য ঘটনাপ্রবাহও এই সংকটের অংশ। ফলে প্রণালিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে শুধু বক্তব্য নয়, কার্যকর কূটনৈতিক আলোচনা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের ওপর প্রভাব ফেলছে। তবে ল্যাভরভের সফর থেকে কোনো নির্দিষ্ট সমঝোতা বা উত্তেজনা কমানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বৈঠকের পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদন অনুসরণ করা প্রয়োজন।





