নিউইয়র্কে বাসাভাড়া নিয়ে সমস্যায়? বাংলাদেশি ভাড়াটিয়াদের জন্য রয়েছে বিনা মূল্যে আইনি সহায়তার সুযোগ
বাড়িওয়ালা বাসা মেরামত না করলে, উচ্ছেদের নোটিশ দিলে কিংবা জাতীয়তা বা অভিবাসন অবস্থার কারণে বৈষম্য করলে নিউইয়র্কের ভাড়াটিয়ারা সরকারি সহায়তা চাইতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য বাসাভাড়া, বাড়িওয়ালার সঙ্গে বিরোধ এবং উচ্ছেদের আশঙ্কা বড় উদ্বেগের বিষয় হতে পারে। নগরীর সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ভাড়াটিয়াদের জাতীয়তা, ধর্মীয় বিশ্বাস বা অভিবাসন অবস্থার কারণে বাসা ভাড়া দিতে অস্বীকার করা কিংবা বৈষম্যমূলক আচরণ করা যাবে না। বাড়িওয়ালা এসব কারণে প্রয়োজনীয় মেরামত বা সমান সেবা থেকেও কাউকে বঞ্চিত করতে পারেন না।
কোনো বাংলাদেশি ভাড়াটিয়া যদি মনে করেন যে তাঁর জন্মদেশ, ভাষা, ধর্ম বা অভিবাসন অবস্থার কারণে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন, তাহলে নিউইয়র্ক নগরীর ৩১১ নম্বরে ফোন করে মানবাধিকারবিষয়ক অভিযোগ জানানোর নির্দেশনা চাইতে পারেন। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী নগরীর মানবাধিকার কমিশন বিষয়টি পর্যালোচনা করতে পারে।
যাঁরা কম খরচে বাসা খুঁজছেন, তাঁরা নিউইয়র্কের সরকারি সাশ্রয়ী আবাসন কর্মসূচি ‘হাউজিং কানেক্ট’-এর মাধ্যমে আবেদন করতে পারেন। তবে আবেদন করলেই বাসা পাওয়া নিশ্চিত নয়। প্রতিটি আবাসন প্রকল্পের আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত আলাদা হতে পারে।
উচ্ছেদের ঝুঁকিতে থাকা স্বল্প আয়ের ভাড়াটিয়ারা বিনা মূল্যে আইনি প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার যোগ্য কি না, তা যাচাই করতে পারেন। নগরীর ‘হোমবেস’ কর্মসূচিও উচ্ছেদ প্রতিরোধ, আর্থিক পরামর্শ এবং আবাসনসংক্রান্ত সহায়তার পথ দেখাতে পারে।
বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য পরামর্শ হলো, বাড়িওয়ালার সঙ্গে চুক্তি, ভাড়া পরিশোধের রসিদ, মেরামতের অনুরোধ এবং যেকোনো উচ্ছেদের নোটিশের কপি সংরক্ষণ করুন। আদালতের নোটিশ পেলে উপেক্ষা করবেন না; দ্রুত যোগ্য আইনি সহায়তা নিন। নিজের অভিবাসন অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও বাসাভাড়ার অধিকার সম্পর্কে সরকারি তথ্য জানা গুরুত্বপূর্ণ।



